ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নিরাপদ সড়ক গড়তে শিক্ষার্থীদেরও আইন মানতে হবে দিল্লিতে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তন, তালিকা থেকে বাদ যন্তর-মন্তর ‘ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব’ দুই হাত ছাড়াই পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা, এখন ১৪৫ শিশুর শিক্ষক দুঃখু মিয়া লিটনের সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯ রান রূপগঞ্জে অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালককে হত্যা, গ্রেফতার ২ গোয়েন্দা সিনেমাকেও হার মানানো অভিযান, আশুলিয়ায় ডাকাত সর্দার শাওনসহ আটক ৬ গুগল ম্যাপে যেকোনো স্থান চিহ্নিত করবেন যেভাবে করাচিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা, বিক্ষোভ-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ছেলের কাছে একটু আশ্রয় চান অসুস্থ মা, একসঙ্গে রাখতে নারাজ ছেলে

 

বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের আশ্রয় হতে চান না ছেলে। মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অনীহা প্রকাশ করেছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। অন্যদিকে, নুন-পান্তা খেয়েও ছেলের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর আকুতি জানিয়েছেন তাঁর মা মুন্নি খাতুন (৫৫)।

ছেলের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মুন্নি খাতুন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অভিযোগের শুনানিতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

শুনানিতে সাগর হোসেন স্পষ্ট জানান, তিনি মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে পারবেন না। তবে মায়ের ভরণপোষণের জন্য মাসে কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন ইউএনওকে। মাকে নিজের সঙ্গে রাখার জন্য চাপ দেওয়া হলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আজ যে দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ, ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে সাগর ছেলে। তাঁদের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীকে হারানোর পর বৃদ্ধ বয়সে ছেলেকেই নিজের প্রধান অবলম্বন হিসেবে দেখছেন মুন্নি খাতুন।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সাগরের বিয়ের পর থেকেই মা-ছেলের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে মায়ের ভরণপোষণ দেওয়া এবং তাঁকে নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন সাগর। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ইউএনওর দ্বারস্থ হন মুন্নি খাতুন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সেলিম আহমেদ মা-ছেলের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। তিনি সাগরকে তাঁর বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা এবং ভরণপোষণের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে সাগর রাজি হননি।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় দেশের প্রথম বর্জ্য রিসাইক্লিং প্লান্ট ডিসেম্বরে চালু

শুনানি শেষে বিষয়টির সমাধানে উভয় পক্ষকে কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মুন্নি খাতুনের আশ্রয়, ভরণপোষণ ও দেখাশোনার বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

মুন্নি খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত একজন অসুস্থ মানুষ। এই বয়সে ছেলেকে ছাড়া পাশে থাকার মতো আর কেউ নেই বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছেলের কাছে তাঁর টাকা-পয়সার চাহিদা নেই। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারেন, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট। জীবনের শেষ সময়ে সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় ও ভালোবাসাই তাঁর চাওয়া।

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুকে পরিচয়ের ১৭ দিনের মাথায় কক্সবাজার যাত্রা, তাজমিন হত্যার তদন্তে নতুন তথ্য

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে শুরু থেকেই চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সাগর রাজি না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে মুন্নি খাতুন ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা তাঁর সন্তানের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণ প্রত্যাশা করছেন। বিষয়টি মানবিকভাবে সমাধানের জন্য ছেলেকে বোঝানো হয়েছে এবং কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের সমাধানের পাশাপাশি বৃদ্ধা মায়ের কষ্ট লাঘবের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নিরাপদ সড়ক গড়তে শিক্ষার্থীদেরও আইন মানতে হবে

ছেলের কাছে একটু আশ্রয় চান অসুস্থ মা, একসঙ্গে রাখতে নারাজ ছেলে

আপডেটের সময়: ০৩:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

 

বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের আশ্রয় হতে চান না ছেলে। মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অনীহা প্রকাশ করেছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন। অন্যদিকে, নুন-পান্তা খেয়েও ছেলের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর আকুতি জানিয়েছেন তাঁর মা মুন্নি খাতুন (৫৫)।

ছেলের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মুন্নি খাতুন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অভিযোগের শুনানিতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

শুনানিতে সাগর হোসেন স্পষ্ট জানান, তিনি মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে পারবেন না। তবে মায়ের ভরণপোষণের জন্য মাসে কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন ইউএনওকে। মাকে নিজের সঙ্গে রাখার জন্য চাপ দেওয়া হলে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় ৪ জন নিহত, নিশ্চিত করল কর্তৃপক্ষ

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম ও মুন্নি খাতুন দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে সাগর ছেলে। তাঁদের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীকে হারানোর পর বৃদ্ধ বয়সে ছেলেকেই নিজের প্রধান অবলম্বন হিসেবে দেখছেন মুন্নি খাতুন।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সাগরের বিয়ের পর থেকেই মা-ছেলের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে মায়ের ভরণপোষণ দেওয়া এবং তাঁকে নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন সাগর। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ইউএনওর দ্বারস্থ হন মুন্নি খাতুন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সেলিম আহমেদ মা-ছেলের বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেন। তিনি সাগরকে তাঁর বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা এবং ভরণপোষণের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখার বিষয়ে সাগর রাজি হননি।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

শুনানি শেষে বিষয়টির সমাধানে উভয় পক্ষকে কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মুন্নি খাতুনের আশ্রয়, ভরণপোষণ ও দেখাশোনার বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

মুন্নি খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত একজন অসুস্থ মানুষ। এই বয়সে ছেলেকে ছাড়া পাশে থাকার মতো আর কেউ নেই বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছেলের কাছে তাঁর টাকা-পয়সার চাহিদা নেই। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারেন, তাতেই তিনি সন্তুষ্ট। জীবনের শেষ সময়ে সন্তানের কাছে একটু আশ্রয় ও ভালোবাসাই তাঁর চাওয়া।

আরও পড়ুনঃ  সার সংকটে বোরো ও রবি ফসল নিয়ে শঙ্কা, কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, মা-ছেলের বিরোধ মেটাতে শুরু থেকেই চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সাগর রাজি না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে মুন্নি খাতুন ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।

ইউএনও সেলিম আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা তাঁর সন্তানের কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণ প্রত্যাশা করছেন। বিষয়টি মানবিকভাবে সমাধানের জন্য ছেলেকে বোঝানো হয়েছে এবং কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পারিবারিক বিরোধের সমাধানের পাশাপাশি বৃদ্ধা মায়ের কষ্ট লাঘবের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।