সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার এরালিয়া গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কাঠইর ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী তাজুল ইসলাম সারাদিন কাজ শেষে পাশের হুসনপুর গ্রামের এক স্বজনের কাছ থেকে পাওনা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাইফুল ইসলামের বাড়ির সামনে পৌঁছালে এরালিয়া গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও সাফিকুল রহমান, সাইফুলের স্ত্রী জরিনা বেগম এবং তাঁদের মা মিনারা বেগম তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা পেছন থেকে তাজুল ইসলামের মাথা ও নাকে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর কোমরে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। পরে তাজুল ইসলামের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
আহত তাজুল ইসলামের স্বজনদের দাবি, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। তাঁকে মারধরের পর বনের ঝোপের মধ্যে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাজুল ইসলাম বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে তাজুল ইসলামের পুত্রবধূ তামান্না জানান, তাঁর শ্বশুর ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, সাফিকুর রহমান, জরিনা বেগম ও মিনারা বেগমের হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আরিফ উল্ল্যাহ জানান, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।
কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 























