ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক রক্তমাখা সেই জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাইযোদ্ধা শেখ আজিজুর স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও চালক, এক ঘণ্টা পর ফিরতেই গন্তব্যের পথে সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে রিসোর্টে ডাকাতি, কর্মচারীদের জিম্মি করে লুট জিয়ার সৈনিকরা গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটি চুলও বাঁকা করতে পারেনি: সারজিস আলম  ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, কবে, কখন ও কোথায় হবে ঐতিহাসিক ম্যাচ? বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে: সারজিস বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা: ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর বগুড়ায় ক্লিনিককে ৬০ হাজার, ভুয়া চিকিৎসককে ১ লাখ টাকা জরিমানা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, ঐক্য ধরে রাখার বার্তা

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৪১টি শরিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—সরকার এককভাবে নয়, বরং আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৈশভোজটি ছিল শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা ও মূল্যায়নের অভাব নিয়ে শরিক নেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া এবং বিএনপির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  দাবানল মোকাবিলায় প্রথমবার অভিযানে ফ্রান্সের সামরিক বিশেষ বিমান

শরিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানান, বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক অবদান না থাকলেও কিছু শরিক দলের অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও দাবি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের মতে, সত্যিকারের আন্দোলনসঙ্গীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি শরিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামলে ঐক্য ধরে রাখাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ  ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৩, উদ্ধার মাদক ও স্বর্ণালংকার

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এটি বিদায়ী নৈশভোজ নাকি নতুন শুরুর বার্তা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি বিদায় নয়, বরং নতুনভাবে একসঙ্গে পথচলার সূচনা।”

সাইফুল হক আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন সরকার সবকিছু একা করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন সময়ে পাশে থাকা রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোয়।

এদিকে, সাবেক শরিক নেতা ও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈয়দ এহসানুল হুদা মনে করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শরিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব অনেকটাই কমেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  চলতি বছরের শেষেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে: মির্জা ফখরুল

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও শক্তিশালী করা এবং জুলাই সনদ ও ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নৈশভোজ শরিকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামনে থাকা নির্বাচন ও সরকার পরিচালনায় মিত্রদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভর্তি না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হ্যাক

শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, ঐক্য ধরে রাখার বার্তা

আপডেটের সময়: ০৯:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৪১টি শরিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—সরকার এককভাবে নয়, বরং আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৈশভোজটি ছিল শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা ও মূল্যায়নের অভাব নিয়ে শরিক নেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া এবং বিএনপির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনঃ  জিয়ার সৈনিকরা গত ১৬-১৭ বছরে শেখ হাসিনার একটি চুলও বাঁকা করতে পারেনি: সারজিস আলম

শরিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানান, বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক অবদান না থাকলেও কিছু শরিক দলের অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও দাবি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের মতে, সত্যিকারের আন্দোলনসঙ্গীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি শরিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামলে ঐক্য ধরে রাখাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুনঃ  দিনভর বাধার পর রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা, আসামি ১১

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এটি বিদায়ী নৈশভোজ নাকি নতুন শুরুর বার্তা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি বিদায় নয়, বরং নতুনভাবে একসঙ্গে পথচলার সূচনা।”

সাইফুল হক আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন সরকার সবকিছু একা করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন সময়ে পাশে থাকা রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোয়।

এদিকে, সাবেক শরিক নেতা ও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈয়দ এহসানুল হুদা মনে করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শরিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব অনেকটাই কমেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও শক্তিশালী করা এবং জুলাই সনদ ও ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নৈশভোজ শরিকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামনে থাকা নির্বাচন ও সরকার পরিচালনায় মিত্রদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও এতে স্পষ্ট হয়েছে।