সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৪১টি শরিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—সরকার এককভাবে নয়, বরং আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৈশভোজটি ছিল শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, হতাশা ও মূল্যায়নের অভাব নিয়ে শরিক নেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়া এবং বিএনপির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
শরিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকের অবদান অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানান, বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক অবদান না থাকলেও কিছু শরিক দলের অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও দাবি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাদের মতে, সত্যিকারের আন্দোলনসঙ্গীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি শরিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামলে ঐক্য ধরে রাখাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এটি বিদায়ী নৈশভোজ নাকি নতুন শুরুর বার্তা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি বিদায় নয়, বরং নতুনভাবে একসঙ্গে পথচলার সূচনা।”
সাইফুল হক আরও বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন সরকার সবকিছু একা করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন সময়ে পাশে থাকা রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে এগোয়।
এদিকে, সাবেক শরিক নেতা ও বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈয়দ এহসানুল হুদা মনে করেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শরিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব অনেকটাই কমেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও শক্তিশালী করা এবং জুলাই সনদ ও ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর আয়োজিত এই নৈশভোজ শরিকদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামনে থাকা নির্বাচন ও সরকার পরিচালনায় মিত্রদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও এতে স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















