বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হার্টের রোগ। তবে এই রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন তারা ঝুঁকির বাইরে, বিশেষ করে বয়স কম বা বাইরে থেকে সুস্থ দেখালে। কিন্তু বাস্তবে হার্টের স্বাস্থ্য নির্ভর করে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ইতিহাসের ওপর।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুল ধারণা উপেক্ষা করলে অকালেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিচে হার্টের রোগ নিয়ে প্রচলিত ১০টি ভুল ধারণা তুলে ধরা হলো—
১. হার্টের রোগ শুধু বয়স্কদের হয়
এটি একটি সাধারণ ভুল ধারণা। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, ব্যায়ামের অভাব এবং মানসিক চাপের কারণে তরুণ বয়সেও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. শুধু পুরুষরাই বেশি ঝুঁকিতে
নারীরাও হার্টের রোগে আক্রান্ত হতে পারেন এবং অনেক সময় তাদের উপসর্গ ভিন্ন হওয়ায় দেরিতে শনাক্ত হয়, যা ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. উপসর্গ না থাকলে হার্ট সম্পূর্ণ সুস্থ
উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল অনেক সময় নীরবে বাড়ে। প্রথম লক্ষণই হতে পারে গুরুতর হার্ট অ্যাটাক।
৪. পরিবারে হার্টের রোগ না থাকলে ঝুঁকি নেই
জীবনযাপনই বড় ভূমিকা রাখে। অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থাকলে যে কেউ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
৫. শুধু বুকে ব্যথাই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
বুকে ব্যথার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘাড়ে ব্যথাও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
৬. রোগা মানুষদের হার্টের সমস্যা হয় না
শরীরের গঠন নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারাই হার্টের ঝুঁকি নির্ধারণ করে।
৭. শুধু ওষুধেই হার্ট ভালো থাকে
ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণও সমান জরুরি।
৮. সব ধরনের ফ্যাট ক্ষতিকর
সব ফ্যাট খারাপ নয়। বাদাম, অলিভ অয়েল ও অ্যাভোকাডোর মতো ভালো ফ্যাট হার্টের জন্য উপকারী।
৯. উচ্চ রক্তচাপ সহজেই বোঝা যায়
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়ে, তাই এটি ‘নীরব ঘাতক’ নামে পরিচিত।
১০. হার্টের রোগ থাকলে ব্যায়াম করা বিপজ্জনক
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ব্যায়াম হার্টকে আরও শক্তিশালী করে এবং ঝুঁকি কমায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুল ধারণাগুলো দূর করে সচেতন জীবনযাপন শুরু করাই হার্টের রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুস্থ হার্ট মানেই সুস্থ জীবন—তাই আজ থেকেই সচেতনতা শুরু করা জরুরি।
প্রতিবেদকের নাম 




















