ভারতের মেঘালয়ে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ভারতের মেঘালয়ের মাওসিনরামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সোহরা, মাওকিরওয়াটসহ মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায়ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ বেশ কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উজানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের কিছু এলাকাও সাময়িকভাবে পানিবন্দি হতে পারে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বাড়ছে উদ্বেগ
টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সিলেটেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টসহ কয়েকটি স্থানে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামে পানি বৃদ্ধি, বাড়ছে নদীভাঙন
উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেরপুর ও জামালপুরে ক্ষয়ক্ষতি
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে একটি পাকা সড়ক ভেঙে যাওয়ায় একটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জে পাহাড়ি ঢলের চাপে বাঁধ ভেঙে কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। এতে আউশ ধান ও পাটের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঘালয় ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















