
নগরজীবনের কংক্রিটের বিস্তারে যখন সবুজ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে, ঠিক তখনই পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলো বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘ । তাদের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর রমনা পার্কে অনুষ্ঠিত হলো বৃক্ষরোপণ ও ফলজ, ঔষধি এবং পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অক্সিজেনের আধার খ্যাত রমনা পার্কে সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশপ্রেমী তরুণ-তরুণীদের পদচারণায়। হাতে গাছের চারা, হৃদয়ে সবুজ পৃথিবীর স্বপ্ন—এমন দৃশ্য যেন নগরের বুকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক নীরব উৎসবের জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞানী ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহফুজা বেগম, বিশিষ্ট জলবায়ু গবেষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সিথ্রিইআর-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম এবং সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জুবায়ের, জনস্বাস্থ্য ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবির, ক্যাপ্টেন আবদুর রহিম (অব.), মো. মনছুরুল আমিন, মো. মনিরুল ইসলাম, শাহ নাসির, নদী বিশেষজ্ঞ মো. মনিরুজ্জামান মিয়া, রিয়াজুল ইসলামসহ শুভসংঘের বিভিন্ন শাখার উপদেষ্টা ও শুভানুধ্যায়ীরা।
অতিথিরা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং নগর সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ একটি মহৎ উদ্যোগ হলেও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ। তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ ধরনের কর্মসূচি পরিবেশ আন্দোলনের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, “পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব। তরুণদের নেতৃত্বে এমন আয়োজন আমাদের নতুন আশার আলো দেখায়।”
রউফা খানম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। আজকের আয়োজন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।”
আবু জুবায়ের বলেন, “টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ—দুইটিই অপরিহার্য। এই কর্মসূচি সেই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে তরুণদের কাছে।”
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সবুজ অঙ্গীকার’ শপথ গ্রহণ। গাছের চারা গ্রহণের আগে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষ পরিচর্যা এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে শপথ নেন। পরে তাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, ঔষধি ও পরিবেশবান্ধব গাছ বিতরণ করা হয়।
সার্বিক আয়োজনের সমন্বয় করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটন।
তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু গাছ বিতরণ করিনি বরং তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং একটি সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গাছগুলো বেঁচে থাকলেই আমাদের এই উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।”
arif 




















