দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ নিয়ে ভারতের সংসদে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান আখিলেশ যাদব।
বুধবার (২২ জুলাই) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ দাবি করেন এবং বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর কথিত পুলিশি নির্যাতনের দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না।
‘শিক্ষার্থীদের কথা না শুনলে তারা রাস্তায় নামবেই’
আখিলেশ যাদব বলেন, “আপনারা যদি শিক্ষার্থীদের কথা না শোনেন, তাহলে তারা রাস্তায় নামবেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আখিলেশের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করা হয়েছে, আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে এবং অনেকেই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মোদিকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আখিলেশ প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি আমাদের মেয়েদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করবেন?”
তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে এসে বক্তব্য দিতে হবে।
আখিলেশ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদের বাইরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারেন, তাহলে সংসদের ভেতরে কেন বিরোধীদের বক্তব্য শুনবেন না।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রসঙ্গ
এর আগে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের সামনে বিরোধীদের বিক্ষোভে অংশ নেন আখিলেশ যাদব। সেখানে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতার সঙ্গে তাকেও আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে আখিলেশ বলেন, “রাহুল গান্ধী ও আমি শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেই সেখানে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী যদি সংসদে আমাদের কথা শুনতেন, তাহলে তার বাসভবনের সামনে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিরোধীদের
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের ঘটনায় বিরোধী দলগুলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করে আসছে।
অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, এনইইটি (NEET) ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। তবে পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে আলোচনার পথ আটকে দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর কথিত নির্যাতন এবং বিরোধী নেতাদের আটকের প্রতিবাদে বুধবার কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের সাংসদরা কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হন।
প্রতিবেদকের নাম 
























