
মানিকগঞ্জে অতি খরা ও অতিবৃষ্টির কারণে সনাতন পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। তবে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে চাষাবাদ এখন কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই প্রযুক্তি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়ছে।
সনাতন পদ্ধতিতে ক্ষতির মুখে কৃষকরা
সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মরিচ চাষ করা হলেও আবহাওয়ার বৈরিতায় সনাতন পদ্ধতির অনেক ক্ষেতেই গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও ফুল ও ফল ঝরে পড়ছে, আবার কোথাও গাছ ঢলে পড়ে মারা যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ পরিশ্রম ও খরচের পরও এবার তারা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না।
একজন কৃষক আলতাব বলেন, “বাপ-দাদার পদ্ধতিতে চাষ করেও এবার গাছ টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। খুব কষ্টে আছি।”
আরেক কৃষক রাহুল ইসলাম জানান, গাছে রোগবালাই ও থুবড়া সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার ভাষায়, “গাছ একেবারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কোনো সমাধান পাচ্ছি না।”
আব্দুল সিদ্দিকী নামের আরেক কৃষক বলেন, “ঋণ করে চাষ করেছি, এখন বড় ক্ষতির আশঙ্কায় আছি।”

মালচিং পদ্ধতিতে আশার আলো
অন্যদিকে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষে অনেক কৃষক সফলতা পাচ্ছেন। এই পদ্ধতিতে খরা ও অতিবৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছ সুস্থ থাকে এবং উৎপাদন ভালো হচ্ছে।
মানিকগঞ্জে গত বছর যেখানে মাত্র ৭ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে ১৪ হেক্টরে পৌঁছেছে।
ঘিওর উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “আমার ভাইয়ের সফলতা দেখে আমি এ বছর আধা বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করেছি। গাছের অবস্থা ভালো।”
আরেক কৃষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, “সনাতন পদ্ধতিতে ক্ষতি হয়েছে, তাই আগামীতে পুরোপুরি মালচিং পদ্ধতিতেই চাষ করব।”
কৃষি কর্মকর্তাদের মতামত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মতিউর রহমান জানান, জেলায় এবার প্রায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হেক্টরে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই পদ্ধতি খরা ও অতিবৃষ্টিতে খুবই কার্যকর। আমরা কৃষকদের এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সনাতন পদ্ধতির ক্ষেতগুলোতে কীটনাশক প্রয়োগ, পানি নিষ্কাশন এবং গাছের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের জন্য একটি টেকসই সমাধান হতে পারে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়লে ভবিষ্যতে মরিচসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















