
আজ ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মরণে দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্য
মে দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—
“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত”।
সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালন করা হচ্ছে, পাশাপাশি সারাদেশে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
সারা দেশে কর্মসূচি
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, র্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।
বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি শ্রমিকদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত।
রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মসূচি
মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে একটি বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনও আলাদা আলাদা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।
মে দিবসের ইতিহাস
মে দিবসের সূচনা হয় ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে। সে সময় শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করেন।
আন্দোলনের সময় হে মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশ হতাহত হয়, যা শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলে।
পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশেও দিনটি শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরির দাবি জোরালো করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















