হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলার অভিযোগে অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে মেট্রোরেল স্টেশনে হয়রানির প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়েছেন কয়েকজন তরুণ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ কর্মসূচিতে অংশ নেন তারা। শর্টস বা স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে গণপরিবহন ব্যবহারে হয়রানি করা বা বাধা দেওয়া উচিত নয়—এমন বক্তব্য সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য খোলা ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ এবং ৮ হাজার ২০০ জন ‘ইন্টারেস্টেড’ ছিলেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত।
সকাল ৭টার দিকে ফার্মগেটের আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী ও রানার সাগর মজুমদার, ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান এবং বেসরকারি চাকরিজীবী রকিবুল ইসলাম।
সাগর মজুমদার বলেন, দৌড়ানোর সময় শর্টস পরা বেশি স্বস্তিদায়ক হওয়ায় রানাররা এটি ব্যবহার করেন। সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য কেউ যেন না পড়েন, সে কারণেই তারা প্রতিবাদে এসেছেন।
তিনি বলেন, শর্টস নিজে কোনো বিষয় নয়; সেটিকে কীভাবে দেখা হচ্ছে সেটিই মূল বিষয়। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান তিনি।
পরে সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠেন। তারা টিকিট কেটে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনে যান এবং সেখান থেকে বের হয়ে যান। রকিবুল ইসলাম তাদের সঙ্গে মেট্রোরেলে ওঠেননি। একই সময়ে ফার্মগেট স্টেশনের অন্য একটি প্রবেশপথ দিয়ে আরও দুজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
রকিবুল ইসলাম জানান, একজন রানারকে হয়রানির প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইভেন্টে আগ্রহ দেখে তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়ে ভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পান বলে জানান তিনি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে সাজ্জাদ হোসেনকে ফার্মগেট স্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য হয়রানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে তাকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বানে বলা হয়, মেট্রোরেলে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। আয়োজকদের ভাষায়, তাদের কর্মসূচি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য নয়; বরং হয়রানির প্রতিবাদ ও যাত্রীদের সম্মানজনক আচরণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ নাগরিক কর্মসূচি।
প্রতিবেদকের নাম 


























