প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসে নানা সমালোচনা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কেউ নির্দিষ্ট দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নুরুল হক নুর।
‘প্রমাণ হলে সেদিনই দায়িত্ব ছাড়ব’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছয় মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ সময়ে নানা ধরনের কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কেউ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারেননি।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই যে ছয় মাস দায়িত্বে আছি, যে যত কথাই বলুক, স্পেসিফিকভাবে কেউ কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবেন না। যেদিন প্রমাণ করবেন, সেদিন দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’
‘পরিবর্তনের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব’
দেশে পরিবর্তনের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নুর বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তনের লড়াই শুরু করেছি, তার শেষ আমরা দেখে যেতে চাই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
এনসিপিকে নিয়ে নুরের অভিযোগ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটিকে রাজনৈতিকভাবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ‘মাফিয়া লুটেরাদের’ পুনর্বাসন করেছে।
তিনি দাবি করেন, এনসিপির নেতাদের শত শত কোটি টাকার মালিক বানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও সঠিকভাবে তদন্ত হলে বড় ধরনের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে সভায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
জামায়াতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
এনসিপির প্রায় ৮০ শতাংশ নেতা অতীতে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা। তাঁর মতে, জামায়াতের প্রভাব থেকে বের হয়ে বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে না পারলে এনসিপির টিকে থাকা কঠিন হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে নুর বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা নিতে দলটি দ্বৈত অবস্থান গ্রহণ করছে। তাঁর দাবি, রাজপথে এক ধরনের অবস্থান এবং সংসদে আরেক ধরনের অবস্থান দেখা যাচ্ছে দলটির।
কর্মিসভায় যারা বক্তব্য দেন
কর্মিসভায় গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, আরিফুর রহমান, মো. ইউনুস, আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিব উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















