ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

চট্টগ্রামে জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে রোমেন দে (৩৬) নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে দোকানের কর্মচারীরা স্বর্ণের অলংকারের মজুত মিলানোর সময় অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি দোকানের মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে রওনা দেন। মালিক আসছেন জানতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতির বেতন কত

পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেন দে’র দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। এসব চুড়ির মোট ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। চুরি করা স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে ওই বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক।

অভিযানে গ্রেফতার রোমেন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে-কে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্সের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বি জি বি

এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন মিয়াখান নগরের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চুড়িগুলোর ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।

পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা বাকি ৩৯টি স্বর্ণের চুড়িও বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার আরও ৪৮ চুড়ি

পুলিশ জানায়, শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

এসব চুড়ির মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া রোমেন দে’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি এবং ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি, গ্রেফতার ৬

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি। এসব চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি

মামলার তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

আপডেটের সময়: ০৭:৪২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার, গ্রেফতার ৬

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চুড়িগুলোর মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

পুলিশ জানায়, পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক মোড়ের মিমি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ কনক বাহার জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপ্লব বসাক (৫৩)। সেখানে রোমেন দে (৩৬) নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

গত ১৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে দোকানের কর্মচারীরা স্বর্ণের অলংকারের মজুত মিলানোর সময় অসঙ্গতি দেখতে পান। বিষয়টি দোকানের মালিককে জানানো হলে তিনি বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশে রওনা দেন। মালিক আসছেন জানতে পেরে রোমেন দে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে দোকান থেকে পালিয়ে যান।

আরও পড়ুনঃ  বাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

পরে দোকানের মজুত যাচাই করে দেখা যায়, রোমেন দে’র দায়িত্বে থাকা সাতটি বক্সে রাখা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি নেই। এসব চুড়ির মোট ওজন ছিল প্রায় ৯২৭ দশমিক ৫০০ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। চুরি করা স্বর্ণের চুড়ির পরিবর্তে ওই বক্সগুলোতে ইমিটেশনের চুড়ি রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ১৫ আগস্ট পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন দোকান মালিক বিপ্লব বসাক।

অভিযানে গ্রেফতার রোমেন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শওকত ইমামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট মহাসড়ক এলাকা থেকে রোমেন দে-কে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের অনুমতি নিয়ে তাকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রোমেন জানান, আত্মসাৎ করা ৫৩টি স্বর্ণের চুড়ি বিভিন্ন জুয়েলার্সের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কোচের আকস্মিক বিদায়, সংকট বাড়ল হকিতে

এর মধ্যে ৪৬টি চুড়ি বাকলিয়ার মিয়াখান নগর রোডের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’-এর মালিক শ্যামল সিংহের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছিল। রোমেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া এলাকা থেকে শ্যামল সিংহকে গ্রেফতার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন মিয়াখান নগরের ‘মর্ডাণ ইরানী জুয়েলার্স’ থেকে সাতটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চুড়িগুলোর ওজন ১৪২ দশমিক ৪০ গ্রাম।

পরদিন ২০ আগস্ট শ্যামল সিংহকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার কাছে থাকা বাকি ৩৯টি স্বর্ণের চুড়িও বিভিন্ন জুয়েলার্স ও বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছে রাখা হয়েছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার আরও ৪৮ চুড়ি

পুলিশ জানায়, শ্যামল সিংহের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ‘মর্ডাণ রিনা জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘সাহা জুয়েলার্স’ থেকে ১৬টি এবং বিভিন্ন বন্ধকি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আরও ২০টি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার

এসব চুড়ির মধ্যে লিটন মহাজনের কাছ থেকে একটি, সাগর কারিগরের কাছ থেকে পাঁচটি, পার্থ মহাজনের কাছ থেকে ১১টি এবং রুবেল মহাজনের কাছ থেকে তিনটি চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া রোমেন দে’র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়ার ‘মর্ডাণ রিয়া জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, ‘শাহ আমানত জুয়েলার্স’ থেকে তিনটি, চকবাজারের ‘ফেন্সী জুয়েলার্স’ থেকে দুটি এবং ‘তাজমহল জুয়েলার্স’ থেকে একটি স্বর্ণের চুড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি, গ্রেফতার ৬

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৫৫ পিস স্বর্ণের চুড়ি। এসব চুড়ির মোট ওজন ৯৯ ভরি ৪ আনা ৫ রত্তি

মামলার তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।