ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিদের জীবনেও

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব শুধু বিশ্ব রাজনীতি বা জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব এবার পড়ছে সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী তিমিদের জীবনেও। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্বল্প দূরত্বের রুট এড়িয়ে চলছে। ফলে অনেক জাহাজ বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে চলাচল করছে। এতে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতের যেকোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব ভয়াবহ হবে: আসিম মুনির

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে অন্তত ৮৯টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪৪টি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তিমি আবাসস্থলগুলোর একটি। এখানে সাউদার্ন রাইট, হাম্পব্যাক, ব্রাইডস হোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির তিমি ও ডলফিনের বিচরণ রয়েছে। বিশেষ করে হাজার হাজার হাম্পব্যাক তিমি এই অঞ্চলে খাবার সংগ্রহ করে অ্যান্টার্কটিকার দিকে যাত্রা করে।

আরও পড়ুনঃ   ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানে ক্ষুব্ধ আমিরাত, শ্রমিক ফেরত পাঠানোর অভিযোগ

গবেষকদের আশঙ্কা, জাহাজের সংখ্যা ও গতি বেড়ে যাওয়ায় তিমিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। অনেক সময় তিমিরা জাহাজের শব্দ বুঝে নিরাপদে সরে যেতে পারে না। ফলে দ্রুতগতির জাহাজের ধাক্কায় তারা আহত বা নিহত হচ্ছে।

প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন জানান, অনেক কার্গো জাহাজের কর্মীরা তিমির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলেও বাস্তবে এসব জাহাজের ধাক্কায় কত তিমি মারা যাচ্ছে, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে মৃত পাওয়া বহু তিমির শরীরে জাহাজের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক তিমি গভীর সমুদ্রে মারা গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু সমাধানের কথাও বলছেন গবেষকরা। জাহাজের রুট সামান্য পরিবর্তন, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং তিমির অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

T ag
জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিদের জীবনেও

আপডেটের সময়: ০৯:৫৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব শুধু বিশ্ব রাজনীতি বা জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব এবার পড়ছে সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী তিমিদের জীবনেও। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্বল্প দূরত্বের রুট এড়িয়ে চলছে। ফলে অনেক জাহাজ বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে চলাচল করছে। এতে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতের যেকোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ জবাব ভয়াবহ হবে: আসিম মুনির

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে অন্তত ৮৯টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪৪টি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তিমি আবাসস্থলগুলোর একটি। এখানে সাউদার্ন রাইট, হাম্পব্যাক, ব্রাইডস হোয়েলসহ বিভিন্ন প্রজাতির তিমি ও ডলফিনের বিচরণ রয়েছে। বিশেষ করে হাজার হাজার হাম্পব্যাক তিমি এই অঞ্চলে খাবার সংগ্রহ করে অ্যান্টার্কটিকার দিকে যাত্রা করে।

আরও পড়ুনঃ  শিরোপা জয়ের দিনে বার্সেলোনার অনন্য রেকর্ড

গবেষকদের আশঙ্কা, জাহাজের সংখ্যা ও গতি বেড়ে যাওয়ায় তিমিদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। অনেক সময় তিমিরা জাহাজের শব্দ বুঝে নিরাপদে সরে যেতে পারে না। ফলে দ্রুতগতির জাহাজের ধাক্কায় তারা আহত বা নিহত হচ্ছে।

প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলস ভারমিউলেন জানান, অনেক কার্গো জাহাজের কর্মীরা তিমির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলেও বাস্তবে এসব জাহাজের ধাক্কায় কত তিমি মারা যাচ্ছে, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে মৃত পাওয়া বহু তিমির শরীরে জাহাজের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক তিমি গভীর সমুদ্রে মারা গেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে যুক্তরাজ্য

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু সমাধানের কথাও বলছেন গবেষকরা। জাহাজের রুট সামান্য পরিবর্তন, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং তিমির অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।