ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রোহিঙ্গা সংকট এখন মানবিকতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অভিবাসন উদ্বেগ: ঢাকা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান: যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলামোটরে চাঁদা দাবির পর গুলিবর্ষণের অভিযোগ, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা কারাগারে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাঙারি কুড়িয়ে জীবন কাটানো বৃদ্ধের পেনশন অ্যাকাউন্টে ৭২ লাখ টাকা মসজিদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির শিমু হত্যা মামলায় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

কাজী জাফর উল্ল্যাহ ও পরিবারের ১৭১ ব্যাংক হিসাবে ১৫৫ কোটি টাকা ফ্রিজ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাঁচ সদস্যের নামে থাকা ১৭১টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরে মোট ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে যাদের ব্যাংক হিসাব ও লকার অবরুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তারা হলেন—কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী নীলুফার জাফর উল্ল্যাহ, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফর, মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফর।

আরও পড়ুনঃ  ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

দুদক জানায়, অনুসন্ধানে পরিবারের সদস্যদের নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির গুলশান ও বনানী শাখায় বিপুল পরিমাণ এফডিআর, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের পাশাপাশি একাধিক লকারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নথি অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্ল্যাহর নামে ৪৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে।

তার স্ত্রী নীলুফার জাফর উল্ল্যাহর নামে ২৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকে তার ডাবল লকার সুবিধাও রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে ৩৩টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। তার মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবেও লকার সুবিধা রয়েছে।

মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে ২৮টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবের সঙ্গেও লকার সুবিধা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে ৪২টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে বলে জানায় দুদক।

আরও পড়ুনঃ  ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচ বছর

দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ মামলা বা অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে হাতবদল হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতের কাছে তুলে ধরে দুদক।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

কাজী জাফর উল্ল্যাহ ও পরিবারের ১৭১ ব্যাংক হিসাবে ১৫৫ কোটি টাকা ফ্রিজ

আপডেটের সময়: ০৭:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাঁচ সদস্যের নামে থাকা ১৭১টি ব্যাংক হিসাব ও এফডিআরে মোট ১৫৫ কোটি ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে যাদের ব্যাংক হিসাব ও লকার অবরুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তারা হলেন—কাজী জাফর উল্ল্যাহ, তার স্ত্রী নীলুফার জাফর উল্ল্যাহ, বড় ছেলে কাজী ওমর জাফর, মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফর এবং মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফর।

আরও পড়ুনঃ  ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

দুদক জানায়, অনুসন্ধানে পরিবারের সদস্যদের নামে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির গুলশান ও বনানী শাখায় বিপুল পরিমাণ এফডিআর, সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের পাশাপাশি একাধিক লকারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নথি অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্ল্যাহর নামে ৪৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৩ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৭ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ টাকা রয়েছে।

তার স্ত্রী নীলুফার জাফর উল্ল্যাহর নামে ২৪টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মিডল্যান্ড ব্যাংকে ১৮ কোটি ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫১৭ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ৮ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৮ টাকা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মিডল্যান্ড ব্যাংকে তার ডাবল লকার সুবিধাও রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ‘বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করবেন না, রাজপথ দেখিয়ে দেবে’: মামুনুল হক

বড় ছেলে কাজী ওমর জাফরের নামে ৩৩টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ৭১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫ হাজার ১১১ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টাকা রয়েছে। তার মিডল্যান্ড ব্যাংকের হিসাবেও লকার সুবিধা রয়েছে।

মেজো ছেলে কাজী রায়হান জাফরের নামে ২৮টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ১২ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ও ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার ৪১৫ টাকা রয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবের সঙ্গেও লকার সুবিধা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মেয়ে আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে ৪২টি ব্যাংক ও এফডিআর হিসাবে মেঘনা ব্যাংকে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩০ টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৭৩ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে ২০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৩০২ টাকা রয়েছে বলে জানায় দুদক।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা, প্রত্যেকে পেলেন ২ লাখ টাকা

দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সম্পদ মামলা বা অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে হাতবদল হয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ১৮ বিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতের কাছে তুলে ধরে দুদক।

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।