এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা না পেয়ে আর্থিক সংকটে থাকা লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য এককালীন ২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দ্রুত এই অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অবসর ও কল্যাণের টাকা বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এই উদ্যোগের আওতায় অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পেতে পারেন। প্রথমবারের মতো ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানো হবে। ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, জীবনের শেষ সময়ে চিকিৎসা, সংসার পরিচালনা কিংবা সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে অবসরকালীন এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন অনেক শিক্ষক-কর্মচারী। দীর্ঘদিন টাকা না পাওয়ায় তাদের অনেকেই ঋণের বোঝায় পড়েছেন। এমনকি প্রাপ্য অর্থ হাতে পাওয়ার আগেই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থের একটি বড় অংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে নিয়মিত কেটে রাখা হয়। অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে অর্থ কাটা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত হারে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সরকারি সহায়তা ও তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ও এসব তহবিলে যুক্ত হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে তহবিল ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও আর্থিক সংকটের কারণে অবসরপ্রাপ্তদের পাওনা পরিশোধে জট তৈরি হয়। গত কয়েক বছরে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে।
এদিকে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসরের ছয় মাসের মধ্যে অবসরকালীন সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছিলেন, অবসর সুবিধা পেতে শিক্ষকদের বছরের পর বছর ঘুরতে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের বৈঠক হয়। বৈঠকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণের অর্থ পরিশোধে এককালীন ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্থ বিতরণ কর্মসূচি অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি হতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবসর ও কল্যাণের পাওনা হাতে পাওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তাদের আশা, সরকারের এই সিদ্ধান্তে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও চিকিৎসাসংকট অনেকটাই কমবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















