আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ায় এই দরপতন হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার লেনদেনের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী ছিল। এর আগের কার্যদিবসে মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্যের কারণে স্বর্ণের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছিল।
বাজার তথ্যানুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২৫.১২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির গোল্ড ফিউচার্স ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০.৪০ ডলার প্রতি আউন্সে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ১০০.৪৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ছিল দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে একদিনের ব্যবধানে সেই ঊর্ধ্বগতি থেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ফেড সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হয়েছে। সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ সাধারণত কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষক কেলভিন অং বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির তথ্যের চেয়ে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, ফেডের কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কম। বাজার এখন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনকারী মূল্যসূচক (PPI) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আগামী দিনের বাজার প্রবণতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০.৮ শতাংশ এবং প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















