রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে একটি জুয়েলারি দোকানে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে চোর কীভাবে দোকানে প্রবেশ করেছে—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।
চুরির ঘটনা ঘটেছে নগরের কারুশ্রী জুয়েলার্সে। পাশেই রয়েছে আফিয়া জুয়েলার্স। দুটি দোকানের শাটার ও তালা অক্ষত থাকলেও মাঝখানের ইটের দেয়াল কেটে চুরির ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দুই দোকানের মালিকই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছেন। কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিকের দাবি, পাশের দোকান থেকে দেয়াল কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে আফিয়া জুয়েলার্সের মালিকের দাবি, চোর হয়তো কারুশ্রী জুয়েলার্সের দিক থেকেই দেয়াল কেটে প্রবেশ করেছে।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে কারুশ্রী জুয়েলার্স খোলার পর ভেতরে এলোমেলো অবস্থায় সিন্দুক ভাঙা দেখা যায়। একই সঙ্গে পাশের দোকানের মাঝের দেয়ালে কাটা অংশ পাওয়া যায়।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার ও তার ভাই ইমন সরকার জানান, দোকান থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপার অলংকার এবং প্রায় ২০ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে আফিয়া জুয়েলার্সের মালিক খন্দকার আরিফুর রহমান বলেন, তার দোকানের শাটার ও তালা অক্ষত ছিল। চাবি দিয়ে দোকান খুলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কোনো কিছুই চুরি হয়নি বলে দেখতে পান। তিনি বলেন, “আমার দোকান দিয়ে চোর ঢুকলে তালা ভাঙা থাকত।”
তিনি আরও বলেন, কারুশ্রী জুয়েলার্স থেকে দেয়াল কেটে তার দোকানে প্রবেশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঘটনার পর স্বর্ণপট্টির সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করেন। তারা দ্রুত চোর শনাক্ত ও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান।
তূর্য সরকারের ভাই ইমন সরকার অভিযোগ করেন, দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআরও চোরেরা নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দুই দোকানের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সংস্থাও কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















