ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানে প্রতিদিনই ব্যবহার হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। প্ল্যাটফর্মটিতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকলেও কিছু বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু না থাকলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই চ্যাট ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস চালু রাখা জরুরি।
বিশেষ করে চ্যাট লক, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু রাখলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আরও জোরদার করা যায়।
১. ব্যক্তিগত চ্যাটে চালু করুন ‘চ্যাট লক’
ফোন অন্য কারও হাতে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন যাতে সহজে দেখা না যায়, সেজন্য হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে ‘চ্যাট লক’ সুবিধা। কোনো চ্যাট লক করলে সেটি সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে আলাদা একটি সুরক্ষিত ফোল্ডারে চলে যায়। ওই চ্যাটে প্রবেশ করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা পাসকোডের প্রয়োজন হয়।
যেভাবে চালু করবেন:
যে চ্যাটটি লক করতে চান, সেটিতে প্রবেশ করে প্রোফাইল বা ‘চ্যাট ইনফো’ অপশনে যান। এরপর ‘চ্যাট লক’ চালু করুন। চাইলে ‘সিক্রেট কোড’ সুবিধাও ব্যবহার করা যায়। এতে লক করা চ্যাটের ফোল্ডারটি সাধারণ তালিকা থেকে লুকিয়ে রাখা সম্ভব। পরে নির্ধারিত গোপন কোড দিয়ে সার্চ করলেই ওই চ্যাট দেখা যাবে।
২. অ্যাকাউন্টে চালু রাখুন ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’
শুধু চ্যাট লক করলেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু থাকলে নতুন কোনো ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় এসএমএসে পাওয়া কোডের পাশাপাশি একটি নিরাপত্তা পিন প্রয়োজন হয়।
যেভাবে চালু করবেন:
হোয়াটসঅ্যাপের Settings → Account → Two-step verification অপশনে গিয়ে ফিচারটি চালু করুন। এরপর ৬ সংখ্যার একটি পিন সেট করুন এবং ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করে রাখুন। পিন ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে এটি কাজে আসতে পারে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপের নিবন্ধন কোড বা নিরাপত্তা পিন কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়।
৩. চ্যাট ব্যাকআপেও চালু করুন এনক্রিপশন
ফোনে থাকা চ্যাট সুরক্ষিত রাখলেও ক্লাউডে সংরক্ষিত চ্যাট ব্যাকআপের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকেই এড়িয়ে যান। গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে থাকা ব্যাকআপেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু করা যায়।
যেভাবে চালু করবেন:
হোয়াটসঅ্যাপের Settings → Chats → Chat Backup → End-to-End Encrypted Backup অপশনে যান। এরপর ফিচারটি চালু করে পাসকি, পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত করুন।
নিরাপদ থাকতে আরও যা করবেন
হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করুন। স্মার্টফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু রাখুন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো বার্তা, লিংক কিংবা ফাইল যাচাই না করে খুলবেন না।
এসব সতর্কতা মেনে চললে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিবেদকের নাম 




















