ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) এভারি ডেনিসনের প্রতিষ্ঠান প্যাক্সার বাংলাদেশ লিমিটেডের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ওয়্যারহাউজ উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন এই ওয়্যারহাউজের মাধ্যমে তৈরি পোশাক ও ফুটওয়্যার শিল্পে লেভেল, ব্র্যান্ডিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্মার্ট ওয়্যারহাউজটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় চলবে কার্যক্রম
বেপজা জানিয়েছে, ঢাকা ইপিজেডে প্যাক্সার বাংলাদেশের বিদ্যমান কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে ৮৩০ বর্গমিটার আয়তনের এই স্মার্ট ওয়্যারহাউজ স্থাপন করা হয়েছে।
ওয়্যারহাউজটিতে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কার্টন পণ্য সংরক্ষণ করা যাবে। পণ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ, অর্ডার অনুযায়ী পণ্য সংগ্রহ, প্যাকেটজাতকরণ থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
এর ফলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এভারি ডেনিসনের বৃহত্তর ‘ম্যানুফ্যাকচারিং ৪.০’ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই স্মার্ট ওয়্যারহাউজ স্থাপন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগে জোর
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক।
তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে। প্যাক্সার বাংলাদেশের এ উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘রপ্তানি শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে’
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ ইপিজেডের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।
এভারি ডেনিসনের স্মার্ট ওয়্যারহাউজকে বাংলাদেশের শিল্পখাতে স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বয়ংক্রিয়তা ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মেজর জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, এভারি ডেনিসনের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগই করছে না, এর সঙ্গে প্রযুক্তি, জ্ঞান ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতিও নিয়ে আসছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেপজার বৈঠক
স্মার্ট ওয়্যারহাউজ উদ্বোধনের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঢাকা ইপিজেডের জোন কার্যালয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় তাকে বেপজার কার্যক্রম এবং ঢাকা ইপিজেডসহ বেপজার অধীন ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বেপজার ভূমিকা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ইপিজেডগুলোর অবদানও তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাতে ইপিজেডগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে ভিজিটরস বুকে দেওয়া মন্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচনে পারস্পরিক বাণিজ্যের অ্যাজেন্ডায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি জোন কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারাও রোপণ করেন।
প্যাক্সারের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান
বেপজার তথ্য অনুযায়ী, প্যাক্সার বাংলাদেশ ঢাকা ইপিজেডে তৈরি পোশাক ও ফুটওয়্যার শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের লেভেল, ব্র্যান্ডিং সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সাল থেকে ঢাকা ইপিজেডে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
আরও দুটি ইপিজেড চালুর প্রস্তুতি
বেপজার অধীনে বর্তমানে আটটি ইপিজেড ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু রয়েছে। শিগগিরই পটুয়াখালী ও যশোর ইপিজেডও কার্যক্রমে আসবে বলে জানিয়েছেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান।
সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নতুন এই দুটি ইপিজেডে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন, নির্বাহী পরিচালক (ঢাকা ইপিজেড) মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালসহ বেপজা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 

























