একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুবকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠায় গাজীপুর ভ্যাট কমিশনারেট থেকে তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে আইআরডিতে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
৮ বছরে ৬ দেশে ২৫ বার ভ্রমণ
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী থাকা অবস্থায় মো. আইয়ুব ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।
এই সময়ে তিনি ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া—এই ছয় দেশে ভ্রমণ করেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনটি পাসপোর্ট ব্যবহার করে এসব দেশে মোট ২৫ বার ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। পাসপোর্টগুলোর নম্বর—বিপি০৩৭৯৫, এ০৩৩২৭১ ও এ০৯১৮৩৪।
সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ভারতে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মো. আইয়ুব ভারত ভ্রমণ করেছেন ১২ বার। এ ছাড়া থাইল্যান্ডে সাতবার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবার, চীনে দুবার এবং মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে একবার করে ভ্রমণ করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর ব্যবহৃত একটি পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও তিনি সরকারি কর্মকর্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত পৃথক পাসপোর্ট ব্যবস্থাও রয়েছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগেও বিভাগীয় ব্যবস্থা
মো. আইয়ুবের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের তথ্যের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গত ২৭ আগস্ট তাঁকে আইআরডিতে ওএসডি করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী এবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি সরকারি চাকরির শৃঙ্খলার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। একই সঙ্গে অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়টিও বিভাগীয় প্রক্রিয়ার আওতায় তদন্ত করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















