ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় এবার জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের একটি ছবি সাঁটানো হয়েছে। এর আগে একই সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দুটি ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোলাম আযমের ছবিটি সংগ্রহশালায় টাঙানো হয় বলে জানা গেছে।
ছবির নিচে লেখা হয়েছে ঘটনার বর্ণনা
সংগ্রহশালায় সাঁটানো ছবিটির নিচে একটি ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে শহীদ দুই বাংলাদেশির জানাজায় অংশ নিতে গেলে উপস্থিত মুসল্লিরা গোলাম আযমকে জুতাপেটা করেন।
ছবিটি সাঁটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক।
‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই ছবি লাগিয়েছি’
গোলাম আযমের ছবি সংগ্রহশালায় সাঁটানোর বিষয়ে অর্ক বড়ুয়া বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালা মূলত বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির একটি আর্কাইভ হিসেবে থাকার কথা।
তিনি বলেন, সেখানে কোন ছবি রাখা হচ্ছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষ্য, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক যখন জিন্নাহর ছবি লাগানোর বিষয়ে ‘ইচ্ছা হয়েছে’ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তখন তিনিও একই যুক্তিতে গোলাম আযমের ছবি সাঁটিয়েছেন।
অর্ক বড়ুয়ার ভাষায়, ‘আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই আমি গোলাম আযমের ছবি লাগিয়েছি।’
সংগ্রহশালায় ছবি নিয়ে নতুন বিতর্ক
ডাকসুর সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ছবি সংযোজন ও অপসারণকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার পর গোলাম আযমের ছবি সাঁটানোর বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।
তবে ছবিটি সংগ্রহশালায় সাঁটানোর ক্ষেত্রে ডাকসু কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
গোলাম আযম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তি ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হয় এবং ২০১৩ সালে তাকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালে তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















