ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে নতুন অভিন্ন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ কমানো এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন কতটা হয়েছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে ব্যাংক প্রধানদের।
নতুন এই নীতিমালায় এমডি-সিইওদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসম্পাদন সূচক বা কি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের দায়িত্বে থাকা কিংবা পুনঃনিয়োগের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
পুনঃনিয়োগে দিতে হবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো এমডি বা সিইওকে পুনঃনিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর সময় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত একটি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
ওই প্রতিবেদনে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রধান কতটা অগ্রগতি করেছেন, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে তার ভূমিকা ও সার্বিক কর্মদক্ষতার মূল্যায়নও থাকতে হবে।
খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক ও আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই অভিন্ন কেপিআই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এমডি ও সিইওদের নিয়োগ ও দায়িত্বসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে খেলাপি ঋণ কমানো এবং অবলোপন করা ঋণ আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। নতুন নীতিমালায় এসব শর্তকে আরও সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক করা হলো।
শুধু আর্থিক ফলাফল নয়
নতুন কাঠামোয় শুধু ব্যাংকের লাভ-লোকসান বা আর্থিক ফলাফলকেই এমডি-সিইওদের কর্মদক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হবে না।
আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের সামগ্রিক স্বার্থ এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সময়ে সময়ে যেসব বিশেষ দায়িত্ব বা লক্ষ্য নির্ধারণ করবে, সেগুলোও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রধানের কেপিআইয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থাৎ ব্যাংকের আর্থিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ঋণ আদায়, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত বিশেষ লক্ষ্য বাস্তবায়নেও শীর্ষ নির্বাহীদের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে।
বাড়বে জবাবদিহিতা
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে থাকা অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের সমস্যা মোকাবিলায় অভিন্ন মূল্যায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের ধারণা, নতুন এই কাঠামোর ফলে এমডি ও সিইওদের জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত কর্মদক্ষতা না দেখিয়েও শুধু ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের কারণে চুক্তি নবায়নের সুযোগ কমে আসবে। ফলে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের দায়িত্ব পালনে কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















