ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ছয় বছর পর মঞ্চে ফিরলেন সেলিন ডিওন, আবেগে কেঁদে ফেললেন ৫১ লাখ ভিউ ছাড়াল ফারহানের নাটক, বিসিএস ক্যাডার চরিত্র নিয়ে দর্শকের প্রশ্ন নতুন আইফোন কিনতে কিডনি বিক্রি! কুশাল টন্ডন অনুমোদন ছাড়াই টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন, মানিকগঞ্জে দুই কারখানা সিলগালা অনুমোদন ছাড়াই টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন, মানিকগঞ্জে দুই কারখানা সিলগালা জর্ডানের আকাবায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক, আহত ১১ ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে স্বর্ণের দাম, নতুন দর কত মুরগির পেটে পাওয়া ডিম খাওয়া যাবে? যেসব বিষয় আগে জানা জরুরি শ্যামলীর টিবি হাসপাতাল হবে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ত্রিশালে ডাম্পট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

পদ্মার ভাঙনে কয়েক দিনে বিলীন ৩০০ বসতভিটা, আতঙ্কে শত শত পরিবার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র স্রোতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

নদীর স্রোত ও ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে থাকা আরও কয়েকশ পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

দুই সপ্তাহে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভাঙন

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পদ্মা-যমুনার পানি বাড়ার পর থেকেই নদীতে স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ভাঙন শুরু হয়। প্রথম দিকে ভাঙনের গতি তুলনামূলক কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  সংস্কারে ঐকমত্য হলে আগামী অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন: স্পিকার

তবে গত দুই সপ্তাহে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

‘কয়েক দিনেই সব হারিয়েছি’

কবিরপুর এলাকার বাসিন্দা সইজুদ্দিন মণ্ডল জানান, গত কয়েক দিনে তাঁর এলাকার প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনিতেই প্রায় ৮০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে।

তার ভাষ্য, নদীর তীরে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ভাঙন দ্রুত বাড়ছে।

একই এলাকার জরগুন বেগম বলেন, শফি মেম্বারের কলোনিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিনের ভাঙনে অনেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুনঃ  প্রবাসী ভোটারদের সম্মতি ও নতুন নিবন্ধনের আহ্বান ইসির

প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষের খোঁজ নিতে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

গত বছরও হারিয়েছে বহু পরিবার

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত বছর তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছিল। চলতি বছরও গত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা, শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠকে ৩ ফরাসি সিনেটর

তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শনের আশ্বাস

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগের কথা পাউবোর

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের নদীভাঙন স্থায়ীভাবে মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা যাচাই করা হচ্ছে।

চরাঞ্চলের জন্য স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ছয় বছর পর মঞ্চে ফিরলেন সেলিন ডিওন, আবেগে কেঁদে ফেললেন

পদ্মার ভাঙনে কয়েক দিনে বিলীন ৩০০ বসতভিটা, আতঙ্কে শত শত পরিবার

আপডেটের সময়: ০৭:০১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে তীব্র স্রোতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকায় প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

নদীর স্রোত ও ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে থাকা আরও কয়েকশ পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

দুই সপ্তাহে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভাঙন

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পদ্মা-যমুনার পানি বাড়ার পর থেকেই নদীতে স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ভাঙন শুরু হয়। প্রথম দিকে ভাঙনের গতি তুলনামূলক কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  প্রবাসী ভোটারদের সম্মতি ও নতুন নিবন্ধনের আহ্বান ইসির

তবে গত দুই সপ্তাহে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে জয়পুর, কবিরপুর ও বিশরশি এলাকার বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

‘কয়েক দিনেই সব হারিয়েছি’

কবিরপুর এলাকার বাসিন্দা সইজুদ্দিন মণ্ডল জানান, গত কয়েক দিনে তাঁর এলাকার প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনিতেই প্রায় ৮০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে।

তার ভাষ্য, নদীর তীরে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ভাঙন দ্রুত বাড়ছে।

একই এলাকার জরগুন বেগম বলেন, শফি মেম্বারের কলোনিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিনের ভাঙনে অনেক বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাদের।

আরও পড়ুনঃ  লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস

প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষের খোঁজ নিতে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

গত বছরও হারিয়েছে বহু পরিবার

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত বছর তাঁর ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছিল। চলতি বছরও গত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, আমন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় ঢাকার অসন্তোষ

তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন পরিদর্শনের আশ্বাস

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগের কথা পাউবোর

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের নদীভাঙন স্থায়ীভাবে মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা যাচাই করা হচ্ছে।

চরাঞ্চলের জন্য স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।