দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার পর আবারও পূর্ণাঙ্গ লাইভ কনসার্টে ফিরলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সেলিন ডিওন। প্যারিসের মঞ্চে পা রাখার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কেঁদেছেন, আবার সেই কান্না মুছে গানেও ফিরেছেন। তার কণ্ঠের সঙ্গে একসময় একাত্ম হয়ে গেছেন হাজারো দর্শক।
অসুস্থতার পর দীর্ঘ বিরতি
২০২২ সালে সেলিন ডিওন জানিয়েছিলেন, তিনি বিরল স্নায়ুরোগ ‘স্টিফ পারসন সিনড্রোমে’ আক্রান্ত। এই রোগের কারণে পেশিতে খিঁচুনি ও শরীর শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবে গান গাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও থেরাপি। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে মঞ্চ থেকে দূরে থাকতে হলেও গান ও দর্শকদের সঙ্গে তার সম্পর্ক থেমে থাকেনি।
প্রথম গানেই আবেগাপ্লুত
অবশেষে প্যারিসের প্লেনিটিউড অ্যারেনায় পূর্ণাঙ্গ লাইভ পারফরম্যান্সে ফিরলেন সেলিন। মঞ্চে উঠে প্রথম গান গাওয়ার সময়ই আবেগে থেমে যেতে দেখা যায় তাকে।
একপর্যায়ে মাইক্রোফোন দর্শকদের দিকে এগিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পুরো অ্যারেনা যেন গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে। হাজারো দর্শকের কণ্ঠে নিজের গান শুনে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সেলিন।
কালজয়ী গানে মাতালেন দর্শক
ফিরে আসার এই বিশেষ মুহূর্তে নিজের জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন সেলিন ডিওন। ‘অল বাই মাইসেলফ’, ‘দ্য পাওয়ার অব লাভ’ এবং ‘মাই হার্ট উইল গো অন’-এর মতো গানগুলোতে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু গান নয়, মঞ্চে নাচ ও দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেও নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার বার্তা দেন তিনি।
‘সে তার সবটুকু দিয়েছে’
কনসার্টে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক জানান, পুরো আয়োজনটিই ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। দীর্ঘ বিরতির পর সেলিন যেভাবে মঞ্চে ফিরেছেন, সেটিকে তারা বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
এক দর্শকের ভাষায়, “সে তার সবটুকু দিয়েছে, আর আমরা সবাই তার পাশে ছিলাম।” তাদের মতে, অসুস্থতার সঙ্গে সেলিনের লড়াই এবং আবার মঞ্চে ফিরে আসা অন্যদেরও কঠিন সময় পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
ফিরে আসার গল্পে নতুন অধ্যায়
নিজের অসুস্থতার কথা কখনোই আড়াল করেননি সেলিন ডিওন। বরং দীর্ঘ চিকিৎসা ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের জীবনেরই একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তাই ছয় বছর পর মঞ্চে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি কনসার্ট নয়; সংগীতপ্রেমীদের কাছে এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসার এক আবেগঘন গল্প। সেলিনের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই এই প্রত্যাবর্তনকে দেখছেন তার ভক্তরা।
প্রতিবেদকের নাম 


























