দেশজুড়ে হামের (Measles) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৫০ জনেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।
স্বনামধন্য একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীর প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালে তীব্র চাপ, শয্যা সংকট
ঢাকা ও অন্যান্য শহরের হাসপাতালগুলোতে হামের রোগীতে ভর্তি চাপ বেড়েছে। অনেক জায়গায় শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সংক্রামক রোগ হাসপাতালগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
কীভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হলো
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে দেশে নিয়মিত হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার পরিবর্তে নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় যাওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় এবং টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।
এ সময় আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, টিকাদান ব্যাহত হলে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিহীনতা ও ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় রোগটি দেখা দিলেও পরে দ্রুত দেশের অধিকাংশ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন-এ ঘাটতি ও অপুষ্টি শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি জরুরি। একই সঙ্গে জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঘোষণা এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারী পদক্ষেপ
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সারা দেশে তা বিস্তারের পরিকল্পনা চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















