বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা এবং মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়ে পড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছায়। এতে সপ্তাহজুড়েও স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে লেনদেন হয়।

তেলের দাম কমায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না তাঁর দেশ। একই সময়ে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জেফরিজের মালিকানাধীন ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাসের মতে, তেলের দাম কমে আসায় চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো হচ্ছে। এতে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং বন্ডের মুনাফার হারও সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে। এসব কারণে স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ডলারের দর কমলে কেন বাড়ে স্বর্ণের দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সাধারণত মার্কিন ডলারে নির্ধারিত হয়। ডলারের দর দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে এবং দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়।
তবে স্বর্ণের বাজারে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশ্লেষক জাবুরাস সতর্ক করে বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো অব্যাহত। পাশাপাশি ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা ও তুলনামূলক বেশি বন্ড মুনাফার হার স্বর্ণের দাম কমিয়ে দিতে পারে।
ফেডের সুদের হার নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমতে পারে। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। বিপরীতে সুদযুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে।
বৃহস্পতিবার সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। তবে চলতি মাসের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ১৯ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে ৮৪ শতাংশ।
বেড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৯০ দশমিক ৪৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬২ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে দুর্বল মার্কিন ডলার, তেলের দামের পতন এবং ফেডের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। তবে সুদের হার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে সামনের দিনগুলোতে স্বর্ণের দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
প্রতিবেদকের নাম 






















