আজ (২৬ জুলাই) বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস। অথচ এদিনও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন নানা মনুষ্যসৃষ্ট সংকটে বিপর্যস্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন দখল এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এই অনন্য জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গবেষকদের মতে, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থলই নয়, এটি হাজারো প্রজাতির উদ্ভিদ, মাছ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বেষ্টনী হিসেবেও কাজ করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বনের মাটি ও পানির লবণাক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বন দখল ও মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডও সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এদিকে সুন্দরবনের মোহনা ও নদীগুলোতে পলি জমে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে। ডিমের চর ও পক্ষির চর এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকায় সরকার বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে ওঠার সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, সুন্দরবনের স্বাভাবিক বনভূমি কতটা টিকে আছে এবং কোথাও তা ধ্বংস হচ্ছে কি না, সেটিই আগে মূল্যায়ন করা জরুরি। তিনি জানান, নতুন চরগুলোতে স্বাভাবিকভাবে বন গড়ে ওঠার পরিবর্তে সীমিত কয়েকটি প্রজাতির গাছ রোপণ করা হচ্ছে। অথচ পুরো সুন্দরবনে প্রায় ৪০০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। তার মতে, এই বৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাকৃতিক বন পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, সরকার স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞানভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে সুন্দরবন তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে পারে।
এদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে সম্প্রতি ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় একটি যৌথ প্রকল্পও চালু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















