ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, পাকিস্তানসহ ত্রিদেশীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা হচ্ছে। ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে জোটগত ঐক্যের স্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। সংকটের সময়ে সৌদির পাশে দাঁড়াতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের কিছু সামরিক সহায়তা, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের সহায়তা দিতে তুরস্কের কোনো দ্বিধা নেই।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
গত মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে জোটের অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের এসব হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিকল্প লোহিত সাগর নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিল সৌদি
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিল রিয়াদ। তবে সৌদি আরবের সেই আবেদন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর গোষ্ঠীটি মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাওয়া সৌদি আরবকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে টেনে আনা গ্রহণযোগ্য নয়। চলমান সংঘাত বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফিদান বলেন, সংকট সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন কিছু প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপও এখন সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিয়াদে হামলার দাবি হুথিদের
ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তিটি একটি উন্মুক্ত প্রক্রিয়া। এটি অন্য কোনো আন্তর্জাতিক জোটের বিকল্প হিসেবে গঠিত হয়নি বলেও জানিয়েছে আঙ্কারা।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হুথিরা রিয়াদের একাধিক ‘সংবেদনশীল’ স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে।
সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সব সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক।
প্রতিবেদকের নাম 



















