বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজ্যান্ডার নোভাক। তাঁর মতে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে ভারসাম্য ফিরতে পারে।
রাশিয়ার রাজনৈতিক টক শো ‘সোলোভিয়েভ লাইভে’ দেওয়া বক্তব্যে নোভাক এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে এবং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেলের মজুত দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার সক্ষমতা কমছে
নোভাকের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের হাতে থাকা মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এসব মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা ইতোমধ্যে কমে আসছে।
তিনি মনে করেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হলে বাজারের ভারসাম্য ফিরতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় বছর।
বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে রাশিয়ার উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে নোভাক আরও জানান, রাশিয়ার তেল নিয়ে প্রথম একটি ট্যাঙ্কার রুশ বন্দর থেকে বিশ্ববাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন। ওই চুক্তির আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
তবে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উভয় রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এর সমালোচনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার আয় বাড়লে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থায়ন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরবরাহের স্বাভাবিকতা এবং রাশিয়ার তেল রপ্তানির গতিপ্রকৃতির ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের ভারসাম্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















