ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা: কোন বিভাগে ফরম পূরণে কত টাকা লাগবে ১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ম গ্রেড চান প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভাবে ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ, নতুন পোশাক কিনতে পারেনি উলিপুরের ২০০ রবিদাস পরিবার ‘সরকার বা ব্যক্তির নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে তথ্য কমিশন’: অধ্যাপক নাহরিন সাদা নাকি হলুদ ঘি—পুষ্টিগুণ ও উপকারিতায় কোনটি এগিয়ে? কমল স্বর্ণের দাম, সনাতন পদ্ধতিতে ১ ভরি মিলছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ডিসিকে ‘চুড়ি পরে বসে থাকার’ কটূক্তি জামায়াত নেতার ‘ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আওয়ামী লীগ’, মন্তব্য রিজভীর হাসপাতালের সড়ক সংস্কারের বরাদ্দে নেতার বাড়ির পথ পাকা, দুর্ভোগে অন্তঃসত্ত্বারা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

১২ বছর পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষার পর চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চালু হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজুর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ হয়ে উঠতে পারে।

২০১৪ সালে সেতুটি চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে অবনতি ঘটায় উত্তর কোরিয়ার অংশে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক। এর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন সেতুটি কয়েক দশক পুরোনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পুরোনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে জাপান নির্মাণ করেছিল।

এর আগে বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  জরুরি রক্ষণাবেক্ষণে নাটোরে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির অর্থনৈতিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগই ছিল চীনের রপ্তানি।

তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরপরই বাণিজ্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়াও চীনা পণ্যের আমদানি হঠাৎ অনেক বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক। কারণ, এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, দুই দেশের বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

চীন ও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে। তবে অতীতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের নেতৃত্বে দেশটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় এবং নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়ায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েলের মতে, এক দশক আগেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করত চীন এবং দেশটিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনেকটাই কমে এসেছে।

সূত্র: বিবিসি

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে

১২ বছর পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী সেতু

আপডেটের সময়: ০৯:৩৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষার পর চীন ও উত্তর কোরিয়াকে সংযুক্তকারী ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ চালু হয়েছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজুর সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি চালুর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলপথ হয়ে উঠতে পারে।

২০১৪ সালে সেতুটি চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে অবনতি ঘটায় উত্তর কোরিয়ার অংশে অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল।

আরও পড়ুনঃ  ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক। এর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন সেতুটি কয়েক দশক পুরোনো চীন-কোরিয়া মৈত্রী সেতুর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। পুরোনো সেতুটি ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে জাপান নির্মাণ করেছিল।

এর আগে বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি যুবরাজ সালমানকে ফোন করলেন এরদোগান

চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির অর্থনৈতিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যার বেশির ভাগই ছিল চীনের রপ্তানি।

তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরপরই বাণিজ্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

হানকুক ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের চীনা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বলেন, উত্তর কোরিয়াও চীনা পণ্যের আমদানি হঠাৎ অনেক বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক। কারণ, এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে চীনের প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, দুই দেশের বাণিজ্য ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুনঃ  ৩৪২ কোটি টাকার কেনাকাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের সমালোচনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

চীন ও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে। তবে অতীতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা গেছে।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের নেতৃত্বে দেশটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় এবং নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও বাড়ায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বৃদ্ধি পায় এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক এডওয়ার্ড হাওয়েলের মতে, এক দশক আগেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কঠোর সমালোচনা করত চীন এবং দেশটিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য অনেকটাই কমে এসেছে।

সূত্র: বিবিসি