ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের কর্দমাক্ত সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থে স্থানীয় এক নেতার বাড়ির প্রবেশপথ পাকা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও সাধারণ রোগীরা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দুই ধাপে ৪০০ মিটার সড়কের সলিংকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সরকারি নথি অনুযায়ী, চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামতগঞ্জ বাজারের মূল সড়ক থেকে উত্তর দিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের নির্দেশনা ছিল।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তা আগের মতোই কর্দমাক্ত
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরাদ্দের উদ্দেশ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটির উন্নয়ন হয়নি। বরং বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন শাহিন মালতিয়ার বাড়ির প্রবেশপথ পাকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে কেরামতগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কর্দমাক্ত পথ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জনসাধারণের চলাচল ও স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ঠিকাদারের আশ্বাস, নিজের টাকায় রাস্তা নির্মাণের কথা
প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার সবুজের কাছে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে যা হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে হাসপাতালের সামনের রাস্তা পাকা করে দেবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনিয়মের পরও বরাদ্দ আটকে না রাখার প্রশ্ন
চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, তিনি ঠিকাদারকে বারবার হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার কথা বলেছেন। অন্য কাজ যা-ই হয়ে থাকুক, অন্তত হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি যেন নির্মাণ করা হয়, সে বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদার কথা রাখেননি।
কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ার পরও বরাদ্দের অর্থ কেন আটকে দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারেন না।
অন্যদিকে, প্রকল্পের সভাপতি ও চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এরপর বিষয়টির সমাধান করা যাবে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিবেদকের নাম 























