পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ দমনে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। এতে অঞ্চলটিতে লাখো মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিবিসি উর্দু, পাকিস্তানের দৈনিক ডন এবং এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুজাফফরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান ও পেট্রোল স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক বাসিন্দাকে খাদ্য ও জ্বালানির সন্ধানে খাইবার পাখতুনখোয়া, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে যেতে হচ্ছে।
ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ থেকে।
পরিস্থিতির পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা অত্যন্ত ধীরগতির বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আন্দোলনের পটভূমি
আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) গত ৫ জুন বিধানসভার সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংকটের চিত্র
নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেন, তিনি গত ১৫ দিন ধরে রেশন দোকানে গেলেও আটা পাচ্ছেন না। খোলা বাজারে পাওয়া গেলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
পুঞ্চ জেলার বাসিন্দা নাভিদ অভিযোগ করেন, রাওয়ালপিন্ডি থেকে পরিবারের জন্য আটা, ডাল, চিনি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কিনে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেগুলো জব্দ করে নেয়।
তার ভাষায়, “আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি। বলেছি আমার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তবুও তারা খাবারগুলো ফেরত দেয়নি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সরকারের অবস্থান
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডন-কে জানিয়েছেন, সরকার রক্তপাত এড়িয়ে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তার দাবি, খাদ্য ও জরুরি পণ্যের সরবরাহ সীমিত হলে আন্দোলনের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।
তবে জেএএকের নেতারা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। দাবি আদায়ে এক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি উর্দু, ডন
প্রতিবেদকের নাম 




















