
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। গতকাল বুধবার পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান, যা এ যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক ব্যয় হিসাব।
পেন্টাগনের প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে থাকা জুলস হার্স্ট মার্কিন কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানান, এই ব্যয়ের বড় অংশই গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্র কেনায় ব্যয় হয়েছে। তবে পুরো ব্যয়ের বিস্তারিত বিভাজন বা অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে এই বিপুল ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রিপাবলিকান শিবিরে চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ জনমত জরিপে যুদ্ধ ইস্যুতে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে বক্তব্যে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই ব্যয় ‘যৌক্তিক’। তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনি কত মূল্য দিতে রাজি আছেন?”—এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















