
প্রতিবেশী দেশ ভারত সফলভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দীর্ঘ পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার দাবি করেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও এবং বিমানবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে এই মহড়া পরিচালিত হয়।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন” বা “তারা” নামের প্রযুক্তির প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই সিস্টেম সাধারণ বোমাকেও অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।
যদিও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম “অগ্নি-৬” উল্লেখ করেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি—এটি মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র শ্রেণির এবং এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে। তথ্যটি নিশ্চিত হলে এটি হবে ভারতের দীর্ঘতম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়া–এর মতো কয়েকটি দেশের কাছেই ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে। ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এই সক্ষমতা অর্জন করলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানার সক্ষম দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।
সম্প্রতি ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাত এক সম্মেলনে জানান, অগ্নি-৬ কর্মসূচির জন্য তারা প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত। এরই মধ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
সেখানে দাবি করা হয়েছে, “মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল” (এমআইআরভি) প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম হবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।





















