Dhaka ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ৭ দিন “বিএনপি নেতৃত্ব নিয়ে এনসিপি নেতার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘দল এখন হাইজ্যাক’” বিএনপির অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ ঈদ পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে, গঠিত হচ্ছে নতুন পাঁচ উপজেলা—নিকার সভায় বড় সিদ্ধান্ত হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা স্বচ্ছভাবে তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৭ জুন শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ সাদিক কায়েম, এবার জীবনের নতুন যাত্রায় “অপেক্ষা করুন, অভিযান চলছে”—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য খাল খনন শুধু কর্মসূচি নয়, এটি একটি আন্দোলন ও বিপ্লব—পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

কালিগঞ্জে সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক,উপজেলায় ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ধস

কালিগঞ্জ ব্যুরো:


কালিগঞ্জে সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক,উপজেলায় ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ধস। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরোজমিনে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মাঠে যেয়ে দেখা যায় উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বরং সার সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং ধানের কম দামে বিক্রির কারণে প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। উপজেলার মোট আবাদি জমির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের

অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত ধানের দাম কেজি প্রতি ৩৬ টাকা হলেও কৃষকরা বাধ্য হয়ে ২৫-২৬ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। এতে আরও প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ৭,২৫৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা বিঘায় প্রায় ৫৪ হাজারের বেশি। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৮৮০ কেজি ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। দৈনিক দৃষ্টিপাত কে মথুরেশপুর ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ তরফদার বলেন, “বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। রসিদ চাইলে ডিলাররা নানা অজুহাত দেন।”ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা মাঠে পরিশ্রম করি, কিন্তু দাম ঠিক করে অন্যরা।”কুশুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে, আবার ধান বিক্রির সময়ও কম দাম পাচ্ছি।”

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের প্রয়োজন নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে এই অনিয়মগুলো সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি কম থাকায় তারা সরকারি মূল্য, রোগবালাই প্রতিকারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন,সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, “বাজারে কোনো সংকট নেই। কৃষকরা অতিরঞ্জিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন।”এদিকে জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “সরকারি দামে সার বিক্রি ও ধান ক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ৭ দিন

কালিগঞ্জে সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক,উপজেলায় ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ধস

আপডেটের সময়: ০৬:৪১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কালিগঞ্জ ব্যুরো:


কালিগঞ্জে সার ও ধান বাজারে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষতির মুখে কৃষক,উপজেলায় ৭৫ কোটি টাকার আর্থিক ধস। সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরোজমিনে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মাঠে যেয়ে দেখা যায় উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বরং সার সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং ধানের কম দামে বিক্রির কারণে প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়েছে কৃষকদের। উপজেলার মোট আবাদি জমির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি

অন্যদিকে, সরকার নির্ধারিত ধানের দাম কেজি প্রতি ৩৬ টাকা হলেও কৃষকরা বাধ্য হয়ে ২৫-২৬ টাকায় ধান বিক্রি করছেন। এতে আরও প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর প্রায় ৭,২৫৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা বিঘায় প্রায় ৫৪ হাজারের বেশি। প্রতি বিঘায় গড়ে প্রায় ৮৮০ কেজি ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজার ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। দৈনিক দৃষ্টিপাত কে মথুরেশপুর ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ তরফদার বলেন, “বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হয়েছে। রসিদ চাইলে ডিলাররা নানা অজুহাত দেন।”ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমরা মাঠে পরিশ্রম করি, কিন্তু দাম ঠিক করে অন্যরা।”কুশুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “সার কিনতে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে, আবার ধান বিক্রির সময়ও কম দাম পাচ্ছি।”

আরও পড়ুনঃ  প্রকল্প অনুমোদনে জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে এই অনিয়মগুলো সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি কম থাকায় তারা সরকারি মূল্য, রোগবালাই প্রতিকারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  এলডিসি উত্তরণের আগে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জরুরি: ইইউ রাষ্ট্রদূত

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন,সারের অতিরিক্ত দাম নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দীন বলেন, “বাজারে কোনো সংকট নেই। কৃষকরা অতিরঞ্জিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন।”এদিকে জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “সরকারি দামে সার বিক্রি ও ধান ক্রয়ের নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষি খাতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।