ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির ‘জামিনে মুক্ত’ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু সামগ্রিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: আসিফ মাহমুদ ‘দ্য ওডিসি’র দাপট: ৩০ মিনিটেই শেষ বিএফআই আইম্যাক্সের সব টিকিট যশোরে অস্ত্র-পোশাকসহ তিন ভুয়া বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিফা কাউন্সিলে বিদ্রোহের মুখে ইনফান্তিনো, সভাপতি পদ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যোগদান ও পদায়নের তারিখ ঘোষণার পর শাহবাগ ছাড়লেন প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ ছাড়াল, চাপে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৪১ সময় দেখুন

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এর আগে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গিয়ে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদীদূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সরকার ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম এক লাফে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তার আশ্বাস, তারেক রহমানের সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিমের আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান ও যাতায়াত খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন—এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলছে, এই পরিস্থিতিতে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে, যার বড় একটি অংশ এশিয়া অঞ্চলে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যক্তিপর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেই ভাঙবে জ্বালানি খাতের অলিগার্ক কাঠামো: তিতুমীর

এছাড়া খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে, জ্বালানি, গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)ও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ ছাড়াল, চাপে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ

আপডেটের সময়: ১১:৪৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এর আগে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে গিয়ে নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়ছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তার আশ্বাস, তারেক রহমানের সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিমের আলোচনা

সরকার ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম এক লাফে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল হাসিমাখা সেই তাহসিন

বিশ্লেষকদের মতে, আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে খাদ্য, বাসস্থান ও যাতায়াত খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন—এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলছে, এই পরিস্থিতিতে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও খাদ্য উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে, যার বড় একটি অংশ এশিয়া অঞ্চলে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যক্তিপর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেই ভাঙবে জ্বালানি খাতের অলিগার্ক কাঠামো: তিতুমীর

এছাড়া খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে, জ্বালানি, গ্যাস ও সার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)ও জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।