বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নানা পাটেকারকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শক্তিশালী অভিনয়, সংলাপ উপস্থাপন এবং বৈচিত্র্যময় চরিত্রের জন্য দর্শকদের কাছে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকার। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেতার উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘নটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তাক ছাপ্পান’ ও ‘যশোবন্ত’।
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জগতে অভিষেক হয় নানা পাটেকারের। তার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার।
২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তাক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬)-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি।
তবে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে নানা পাটেকারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) সিনেমার উদয় শেঠি চরিত্রের মাধ্যমে। পরে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। গম্ভীর ও শক্তিশালী চরিত্রে পরিচিত নানা পাটেকারের কমেডি গ্যাংস্টার চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
২০১০ সালের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’-তে অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পান তিনি। ২০১৬ সালে মারাঠি সিনেমা ‘নটসম্রাট’-এ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন নানা পাটেকার। ‘যশোবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) ও ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
বহু দশকের ক্যারিয়ারে নানা পাটেকার কখনো গম্ভীর চরিত্রে, কখনো খলনায়ক হিসেবে, আবার কখনো হাস্যরসাত্মক ভূমিকায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রতিবেদকের নাম 

























