ময়মনসিংহের নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে কাঁচা পেঁপে সংগ্রহের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা পেকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি অসাধু চক্র রাসায়নিক ব্যবহার করে পেঁপে কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইলের চর বেতাগৈর ইউনিয়ন, চরশ্রীরামপুর ও আনন্দ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে কাঁচা পেঁপে পাইকারি দরে কেনা হয়। প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ১০ থেকে ১২ টাকায় কেনার পর সেগুলো নির্দিষ্ট ঘর বা আড়তে স্তূপ করে রাখা হয়।
পরে শ্রমিকরা পেঁপেগুলো কাগজে মুড়িয়ে ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে ট্রাকে তোলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, নান্দাইল থেকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতে চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এর মধ্যেই অনেক পেঁপে পুরোপুরি পেকে হলুদ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পেঁপে রাজধানীর বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
চর বেতাগৈর এলাকার ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান জানান, তার নিজের পেঁপের বাগান রয়েছে। পাশাপাশি অন্য চাষিদের কাছ থেকেও বাগানচুক্তিতে পেঁপে কেনেন তিনি। সম্প্রতি ১৫০টি গাছের একটি পেঁপের বাগান ফলসহ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন বলে জানান তিনি।
শাহজাহান ঢাকার বাজারে পেঁপে চড়া দামে বিক্রির কথা স্বীকার করলেও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, পেঁপেতে কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক দেওয়া হয় না। কাগজে মুড়িয়ে রাখলে ভেতরের তাপেই পেঁপে স্বাভাবিকভাবে পেকে যায়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরশ্রীরামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, পেঁপে কাগজে মোড়ানোর আগে স্প্রে মেশিন দিয়ে এক ধরনের তরল রাসায়নিক ছিটানো হয়। এতে ঢাকার বাজারে পৌঁছানোর আগেই পেঁপে কৃত্রিমভাবে পেকে যায় বলে অভিযোগ তাদের।
নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শামীমা সুলতানা বলেন, রাসায়নিকযুক্ত ফল খাওয়ার ফলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈমা সুলতানা বলেন, সব পেঁপে পাকাতে কার্বাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। গাছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা পরিপক্ব পেঁপে কাগজে মুড়িয়ে রাখলে স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেও পাকতে পারে।
তবে নান্দাইলের চরাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা পেঁপে প্রাকৃতিকভাবে পাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা।
প্রতিবেদকের নাম 


























