Dhaka ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩.৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে খালি হাতে ফিরছেন ভোলার জেলেরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে আহত শ্রমিকদের সহায়তা দিল শ্রমিক অধিকার পরিষদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ১০ শর্তে বিশ্বকাপে খেলতে রাজি ইরান মার্কিন সেনাদের আবাসনে পর্যটকদের বুকিং বাতিল, চাপে ইসরায়েলের পর্যটন খাত ইরানের ‘ফ্যান্টাস্টিক থ্রি’: কেন আতঙ্কে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আড়াল থেকেই যুদ্ধ-কৌশলে সক্রিয় মোজতবা খামেনি: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা ধর্মীয় টার্গেটিং বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের কোয়ালিটি এডুকেশনে গুরুত্ব, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনে কাজ করছে সরকার

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাচ্ছেন হকাররা

 

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নগরবিদদের মতে, এ উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ইতোমধ্যে ফুটপাত ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ টেনে হকারদের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করছে। গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পরিচয়পত্রধারী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  “হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় হর্ন বন্ধে বিআরটিএর নির্দেশ”

রাজধানীর ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত ছোট জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। একজন হকার বলেন, “খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি-বাদলা ও ঝড়ের মধ্যে ব্যবসা করা কষ্টকর। আবার যে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে মালামাল রাখা ও দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও কঠিন।”

অন্যদিকে আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়কে হকার বসলে যানজট ও ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত স্থানেই বসবেন। অন্য কোথাও বসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুনঃ  ট্রাফিক আইন ভাঙলে লাইসেন্সে কাটা যাবে পয়েন্ট, চালু হচ্ছে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত না ছাড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে কেউ অবৈধভাবে বসতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল দাগ টেনে বা পরিচয়পত্র দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা পথচারীদের চলাচল, নগর পরিকল্পনা ও হকারদের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  গ্রামীণ জনপদ উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল

নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, “পুরোনো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলেই সমাধান হবে না। পুরো নগর করিডোর পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পকেট জোন তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩.৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ডিজিটাল পরিচয়পত্র পাচ্ছেন হকাররা

আপডেটের সময়: ১০:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

 

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নগরবিদদের মতে, এ উদ্যোগ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ইতোমধ্যে ফুটপাত ও সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাদা দাগ টেনে হকারদের নির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করছে। গুলিস্তান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পরিচয়পত্রধারী হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাফিক আইন ভাঙলে লাইসেন্সে কাটা যাবে পয়েন্ট, চালু হচ্ছে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

রাজধানীর ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত ছোট জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন। একজন হকার বলেন, “খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি-বাদলা ও ঝড়ের মধ্যে ব্যবসা করা কষ্টকর। আবার যে জায়গা দেওয়া হয়েছে, সেখানে মালামাল রাখা ও দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও কঠিন।”

অন্যদিকে আশপাশের মার্কেট ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটপাত ও সড়কে হকার বসলে যানজট ও ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত স্থানেই বসবেন। অন্য কোথাও বসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুনঃ  মমতার অভিযোগ: “বিজেপি নয়, লড়াই ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে”

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোরবানির ঈদের পর ফুটপাত না ছাড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে কেউ অবৈধভাবে বসতে চাইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল দাগ টেনে বা পরিচয়পত্র দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা পথচারীদের চলাচল, নগর পরিকল্পনা ও হকারদের জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  গ্রামীণ জনপদ উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল

নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, “পুরোনো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলেই সমাধান হবে না। পুরো নগর করিডোর পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পকেট জোন তৈরি করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি।