দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। খুলনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, পরিস্থিতির কতটা অবনতি হলে পুলিশকে একা চলাচল করতে নিষেধ করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লং মার্চের প্রস্তুতি নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ লং মার্চের আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১১ দলীয় জোটের লং মার্চকে কেন্দ্র করে পতিত সরকার ফিরে আসার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে বিএনপি সরকার ভিন্ন রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলন থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দিতে এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের আশঙ্কা দেখিয়ে জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারি নিয়োগ ও সার বিতরণ নিয়েও অভিযোগ তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা বিবেচনা না করে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিএনপির লোকজন ছাড়া অন্য কেউ সারের ডিলারশিপ পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ও তা পরিচালনার বাস্তবতা বিরোধী দলে থাকলেই ভালোভাবে বোঝা যায়। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারলে রাজনীতিবিদেরা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের আশ্রয় নেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে তিনি খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কে না জড়িয়ে সরকারের উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া।
আগের দুটি ১১ দলীয় লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এবারের কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে লং মার্চের কারণে সাময়িকভাবে যাতায়াত ও চলাচলে যে অসুবিধা হতে পারে, সে জন্য ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ী, পথচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চ শুরু হবে। এরপর পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা হবে। প্রায় ১২ ঘণ্টার এ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসূল, সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, গাজী এনামুল হক এবং ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার জামায়াতের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























