বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়েছে স্পেন। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই ঐতিহাসিক জয়ের ৪৮ ঘণ্টা আগে স্প্যানিশ শিবিরে ঘটে গেছে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা।
রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, বিশ্বখ্যাত তারকাদের শুভেচ্ছা আর ভয়ংকর আবহাওয়ার বাধা—সবকিছু পেরিয়েই ফাইনালের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
জোকোভিচ-মেসির শুভেচ্ছা, ব্র্যাডির অনুপ্রেরণা
ফাইনালের দুই দিন আগে শুক্রবার ম্যানহাটনের হাডসন নদীর তীরের জ্যাভিটস সেন্টারে বিশেষ এক আয়োজনে অংশ নেয় স্পেন দল।
সেখানে অধিনায়ক রদ্রি কাঁচের জানালা দিয়ে হাডসন নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন। অন্যদিকে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পান বিশ্বখ্যাত টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ ও অভিনেতা কেভিন হার্টের শুভেচ্ছা।
এরপর লিওনেল মেসির সঙ্গেও দেখা করেন স্পেন কোচ। পরে হেলিকপ্টারে করে দলের হেডকোয়ার্টারের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
হেলিপ্যাডে নামার পর তার সামনে হাজির হন আমেরিকান ফুটবল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি। স্পেন কোচকে শুভকামনা জানিয়ে ব্র্যাডি বলেন, “শুভকামনা বন্ধু! মাঠে গিয়ে ওদের উড়িয়ে দাও।”
ফাইনালের আগের দিন বজ্রঝড়ের বাধা
শনিবার ফাইনালের আগের দিন ইস্ট হ্যানোভারের রেড বুল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুশীলনে নামে স্পেন।
ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করে। নিরাপত্তার কারণে অনুশীলন বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হলেও বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে শেষ প্রস্তুতি নিতে মরিয়া ছিল স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা।
তারা অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনড় থাকায় স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কিছুটা উত্তেজনাও তৈরি হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির কাছে হার মানতে হয় তাদের। অনুশীলনের জন্য মাঠে যাওয়ার সময়ই আকাশে বিকট শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। মুহূর্তেই খেলোয়াড়রা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ড্রেসিংরুমে ফিরে যান।
ঝড়ের রাতেও ছিল ফাইনালের প্রস্তুতি
বৃষ্টির তীব্রতায় ড্রেসিংরুমের ছাদ থেকেও পানি পড়তে শুরু করে। এরপর খেলোয়াড়রা হোটেলে ফিরে সময় কাটান। কেউ নিজেদের প্রস্তুতি নেন, কেউ হেয়ারস্টাইল ঠিক করেন, আবার কেউ ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দেখেন।
ঝড়-বৃষ্টির এই বাধা পেরিয়েই পরদিন মাঠে নামে স্পেন।
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ফাইনালে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে স্পেন। নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন ফেরান তোরেস।
ম্যাচ শেষে নিজের গোল নিয়ে তোরেস বলেন, “গোল করার সময় আমি কিছু ভাবিনি। পুরো স্পেনের মানুষের শক্তি দিয়েই বলটি মেরেছিলাম।”
শিরোপা জয়ের পর স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমে শুরু হয় ব্যাপক উদযাপন। গাভি নিজের গোল্ড মেডেল উঁচিয়ে ধরেন, পেদ্রি উদযাপনে মাতেন, আর বোর্হা ইগলেসিয়াস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরাই এখন পৃথিবীর আসল বস।”
সব বাধা, উত্তেজনা ও নাটকীয়তা পেছনে ফেলে স্পেন এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন ইতিহাসের মালিক। ট্রফিতে যোগ হয়েছে দ্বিতীয় নক্ষত্র, আর মাদ্রিদের রাস্তায় নেমেছে লাখো মানুষের বিজয় উৎসব।
প্রতিবেদকের নাম 

























