ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাছ-মুরগি-ডিমের বাজারে কাটেনি স্বস্তি, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ নিখোঁজের দুই দিন পর মাটির নিচে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ, আটক ১ হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ, ট্রাম্পের না আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ, দেশজুড়ে বাড়ল লোডশেডিং প্রকৃতি-প্রাণীর যত্নে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়ায় চাকরির স্বপ্ন, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু—মামুনের লাশ ফেরার অপেক্ষায় পরিবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি—রাজনৈতিক আতঙ্কের ইঙ্গিত? ‘জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকারি দল’: মামুনুল হক আক্কেল দাঁত উঠলেই কেন ব্যথা হয়, কখন এটি বিপজ্জনক ৯/১১-এর ২৫ বছর: গোয়েন্দা ব্যর্থতা যেভাবে বদলে দিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এ লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।

লেনদেনের সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়ায়। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

জুলাই থেকে দ্রুত বাড়ছে ব্যবহার

চলতি বছরের ১ জুলাই দেশে বাধ্যতামূলক ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বাংলা কিউআরের কার্যক্রম শুরু হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে শপিংমল থেকে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজে সেনা পাঠালে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বার্থে হামলার হুমকি ইরানের

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়ায়। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত এ ব্যবস্থা ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

লেনদেনের গতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্য

আরিফ হোসেন খান বলেন, “আমরা চাই, লেনদেনের এই গতি অব্যাহত থাকুক।”

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বলে জানান তিনি।

তার ব্যাখ্যা, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে যদি ৯৯ টাকা পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে প্রশ্ন আসতে পারে—কেন তিনি এক টাকা কম নেবেন? তবে ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে পণ্য বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জবাবদিহি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ

নগদবিহীন লেনদেন সহজ হলে ক্রেতারা আরও বেশি কেনাকাটায় উৎসাহিত হতে পারেন বলেও মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে ঘোষণার পর লেনদেনের গতি আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এক কিউআরেই বিভিন্ন হিসাব থেকে পেমেন্ট

একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা তুহিন ইসলাম জানান, আগে নগদ, বিকাশ কিংবা রকেটের মাধ্যমে টাকা দিতে হলে দোকানে কোন সেবার কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখতে হতো।

তিনি বলেন, তিনি বিকাশ ব্যবহার করেন না। ফলে অনেক দোকানে গিয়ে টাকা দিতে সমস্যায় পড়তে হতো, কারণ সেসব দোকানে বিকাশ ছাড়া অন্য কোনো কিউআর ছিল না।

এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের যেকোনো হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে বড় ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তুহিন।

নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমছে

ঢাকায় পাইকারি কাপড় কিনতে আসা মাহিন হোসেন বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে পাইকারি পণ্য কিনতে এলে সঙ্গে অনেক নগদ টাকা বহন করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ

এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই অনলাইনে টাকা পরিশোধ করতে পারছেন বলে জানান তিনি। ফলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে না।

রাজধানীর মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানি রায়হানুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানে অনেক দামি পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের দাম নগদে নেওয়া অনেক সময় ঝামেলার। এখন কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই টাকা নিতে পারছেন তিনি।

আজিমপুরে ফলের জুস বিক্রি করেন আলতাফ হোসেন। তিনি জানান, দোকানে সারাদিন মানুষের ভিড় থাকে। অনেক ক্রেতার কাছে খুচরা টাকা না থাকায় প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। এখন বাংলা কিউআরে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় খুচরা টাকা নিয়ে আগের মতো ঝামেলা হচ্ছে না।

দৈনন্দিন লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে

ডিজিটাল লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—উভয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করাই বাংলা কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

সাম্প্রতিক লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মাছ-মুরগি-ডিমের বাজারে কাটেনি স্বস্তি, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা

আপডেটের সময়: ০৮:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর পর দেশে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এ লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা।

লেনদেনের সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়ায়। একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

জুলাই থেকে দ্রুত বাড়ছে ব্যবহার

চলতি বছরের ১ জুলাই দেশে বাধ্যতামূলক ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বাংলা কিউআরের কার্যক্রম শুরু হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে শপিংমল থেকে ছোট দোকান ও ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়ায়। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত এ ব্যবস্থা ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

লেনদেনের গতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্য

আরিফ হোসেন খান বলেন, “আমরা চাই, লেনদেনের এই গতি অব্যাহত থাকুক।”

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ দূর করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল বলে জানান তিনি।

তার ব্যাখ্যা, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে যদি ৯৯ টাকা পান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে প্রশ্ন আসতে পারে—কেন তিনি এক টাকা কম নেবেন? তবে ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে পণ্য বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন

নগদবিহীন লেনদেন সহজ হলে ক্রেতারা আরও বেশি কেনাকাটায় উৎসাহিত হতে পারেন বলেও মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে ঘোষণার পর লেনদেনের গতি আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

এক কিউআরেই বিভিন্ন হিসাব থেকে পেমেন্ট

একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা তুহিন ইসলাম জানান, আগে নগদ, বিকাশ কিংবা রকেটের মাধ্যমে টাকা দিতে হলে দোকানে কোন সেবার কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখতে হতো।

তিনি বলেন, তিনি বিকাশ ব্যবহার করেন না। ফলে অনেক দোকানে গিয়ে টাকা দিতে সমস্যায় পড়তে হতো, কারণ সেসব দোকানে বিকাশ ছাড়া অন্য কোনো কিউআর ছিল না।

এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের যেকোনো হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে বড় ধরনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তুহিন।

নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমছে

ঢাকায় পাইকারি কাপড় কিনতে আসা মাহিন হোসেন বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে পাইকারি পণ্য কিনতে এলে সঙ্গে অনেক নগদ টাকা বহন করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত ইস্যু দ্রুত সমাধানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই অনলাইনে টাকা পরিশোধ করতে পারছেন বলে জানান তিনি। ফলে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে না।

রাজধানীর মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানি রায়হানুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানে অনেক দামি পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের দাম নগদে নেওয়া অনেক সময় ঝামেলার। এখন কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই টাকা নিতে পারছেন তিনি।

আজিমপুরে ফলের জুস বিক্রি করেন আলতাফ হোসেন। তিনি জানান, দোকানে সারাদিন মানুষের ভিড় থাকে। অনেক ক্রেতার কাছে খুচরা টাকা না থাকায় প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। এখন বাংলা কিউআরে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় খুচরা টাকা নিয়ে আগের মতো ঝামেলা হচ্ছে না।

দৈনন্দিন লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে

ডিজিটাল লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—উভয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করাই বাংলা কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

সাম্প্রতিক লেনদেনের প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে।