মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং অমাবস্যার প্রভাবে বরগুনার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক ও গ্যাংওয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বড়ইতলা ফেরিঘাটের উভয় পাশের সংযোগ সড়ক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কোমরসমান পানি পেরিয়ে যাত্রীদের ফেরি ও খেয়ায় উঠতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, বর্তমানে পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে বেড়িবাঁধের বাইরের বসতবাড়িগুলোও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী, বরইতলা, ডালভাঙ্গা, বদরখালী ইউনিয়নের বাওয়ালকার এবং পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকি চরাঞ্চল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচিয়ে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এবং বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
পাথরঘাটাগামী যাত্রী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দীন বলেন, অতিরিক্ত জোয়ার হলেই বড়ইতলা ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংযোগ সড়কটি উঁচু করা হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
রায়হানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. রিপন চৌধুরী দুলাল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। দ্রুত সংযোগ সড়ক সংস্কার এবং বড়ইতলা এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, গত কয়েকদিন ধরে সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তবে আজকের পর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















