আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলার সদর উপজেলার ১ নম্বর বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলড্রেস বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চালু থাকবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষিত, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সামাজিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব
আফরোজা খানম রিতা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও সহজ ও সুন্দর করা।
তার ভাষ্য, শিক্ষার মান উন্নত হলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হয়। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই তাদের মেধা ও মননের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার আহ্বান
খাদ্যমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুলড্রেস তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী। নতুন পোশাক পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
গণসংবর্ধনায় বিভিন্ন দাবি
পরে বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় বেতিলা ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে খাদ্যমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মাকসুদুল হাসান চৌধুরী।
গণসংবর্ধনায় বক্তারা মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব পুনরায় আয়োজন এবং বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের লেকটি সংস্কারের দাবি জানান। খাদ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মানিকগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন; তাই তাদের কল্যাণে কাজ করা এবং সবসময় পাশে থাকা তার দায়িত্ব।
প্রতিবেদকের নাম 




















