ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হলেও বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আপাতত বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাংখা পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি এখনো সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। উজান থেকে এবার তুলনামূলক বেশি পানি নেমে আসায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
উজানে কমেছে পানির চাপ
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে গঙ্গা-পদ্মার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমেছে।
তিনি বলেন, ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের অংশে গঙ্গার মূল প্রবাহেও বর্তমানে পানির উচ্চতা কমছে। ফলে ফারাক্কা থেকে পানি ছাড়ার প্রভাব থাকলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
দুই সপ্তাহ ধরে উজানে ভারী বৃষ্টি
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বিহারে গঙ্গা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে অবস্থিত ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়।
এরপর পদ্মায় পানির প্রবাহও বেড়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়তে থাকায় তা সতর্কসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।
তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় পানির চাপও কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কম
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ভেতরে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে ১৭ সেপ্টেম্বরের পর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
মৌসুমি বায়ু সক্রিয়
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফারাক্কার গেট খুলে দেওয়ার কারণে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখছে না বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
প্রতিবেদকের নাম 




















