ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এআই দিয়ে বানানো সব ভিডিওতে আর আয় নয়, ইউটিউব আনল নতুন মনিটাইজেশন নীতিমালা মেসেজে ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে সম্পন্ন হয়? ইসলাম কী বলছে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অভিযোগ, ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন হাইকোর্ট সরকারের আশ্বাসে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত ককরোচ জনতা পার্টির দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে একজন হাইকোর্টে খারিজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বাতিলের রিট মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান মির্জা ফখরুলের দেশীয় প্রযুক্তির চিকিৎসা যন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের ঘোষণা জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি বাংলাদেশের বস্ত্রখাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্জন্ম, আবারও উন্মুক্ত আল-কুদস মসজিদ

দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুকের আল-কুদস মসজিদ। আসাদ সরকার ও রাশিয়ার বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মসজিদটি তুরস্কের দুটি মানবিক সংস্থার উদ্যোগে সংস্কারের পর পুনরায় মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তুরস্কের মাভি মারমারা ফ্রিডম অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনেগোল হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশন-এর যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক বছর ধরে সংস্কার কাজ চলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি সম্প্রদায়ের জন্য এই মসজিদের পুনরায় চালু হওয়াকে নতুন আশার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

একসময় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ইয়ারমুক। হাজার হাজার শরণার্থীর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা—ফাতহি শিকাকি, খলিল আল-ওয়াজির (আবু জিহাদ), খালেদ মেশাল ও আহমেদ জিবরিল—জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই শিবিরে অবস্থান করেছেন। আল-কুদস মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থানই ছিল না, বরং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও কৌশলগত বৈঠকের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল।

যুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃত বোমাবর্ষণে মসজিদটির পাশাপাশি পুরো এলাকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংস্কারের সময় মসজিদের ভেতর ও বাইরের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, অজুখানা ও শৌচাগার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্ক ও সিরিয়ার প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তুর্কি পার্লামেন্ট সদস্য হাসান তুরান, দামেস্কে তুর্কি দূতাবাসের কর্মকর্তা, দামেস্কের উপ-গভর্নর মুয়াজ আল যায়য়াত এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হাসান তুরান বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি মসজিদ উদ্বোধন করছি না; আমরা আমাদের ভ্রাতৃত্বকে পুনর্গঠন করছি এবং নতুন করে আশা জাগিয়ে তুলছি।”

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, গুলশানের বাসায় উঠতে প্রস্তুতি

মাভি মারমারার সভাপতি বেহেস্তি ইসমাইল সোঙ্গুর জানান, প্রায় এক বছর ধরে তুর্কি স্থপতি ও প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এটি আবারও এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মুসল্লি মুহাম্মদ জুমা আতিয়্যাহ বলেন, যারা এই ইবাদতখানা পুনর্নির্মাণে অবদান রেখেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন মুক্ত ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এআই দিয়ে বানানো সব ভিডিওতে আর আয় নয়, ইউটিউব আনল নতুন মনিটাইজেশন নীতিমালা

বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্জন্ম, আবারও উন্মুক্ত আল-কুদস মসজিদ

আপডেটের সময়: ০৬:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির ইয়ারমুকের আল-কুদস মসজিদ। আসাদ সরকার ও রাশিয়ার বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মসজিদটি তুরস্কের দুটি মানবিক সংস্থার উদ্যোগে সংস্কারের পর পুনরায় মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তুরস্কের মাভি মারমারা ফ্রিডম অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনেগোল হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশন-এর যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক বছর ধরে সংস্কার কাজ চলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি সম্প্রদায়ের জন্য এই মসজিদের পুনরায় চালু হওয়াকে নতুন আশার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

একসময় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ইয়ারমুক। হাজার হাজার শরণার্থীর পাশাপাশি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা—ফাতহি শিকাকি, খলিল আল-ওয়াজির (আবু জিহাদ), খালেদ মেশাল ও আহমেদ জিবরিল—জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই শিবিরে অবস্থান করেছেন। আল-কুদস মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থানই ছিল না, বরং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও কৌশলগত বৈঠকের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল।

যুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃত বোমাবর্ষণে মসজিদটির পাশাপাশি পুরো এলাকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সংস্কারের সময় মসজিদের ভেতর ও বাইরের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সাউন্ড সিস্টেম, অজুখানা ও শৌচাগার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, গুলশানের বাসায় উঠতে প্রস্তুতি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তুরস্ক ও সিরিয়ার প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তুর্কি পার্লামেন্ট সদস্য হাসান তুরান, দামেস্কে তুর্কি দূতাবাসের কর্মকর্তা, দামেস্কের উপ-গভর্নর মুয়াজ আল যায়য়াত এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হাসান তুরান বলেন, “আজ আমরা শুধু একটি মসজিদ উদ্বোধন করছি না; আমরা আমাদের ভ্রাতৃত্বকে পুনর্গঠন করছি এবং নতুন করে আশা জাগিয়ে তুলছি।”

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

মাভি মারমারার সভাপতি বেহেস্তি ইসমাইল সোঙ্গুর জানান, প্রায় এক বছর ধরে তুর্কি স্থপতি ও প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে কাজ করে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এটি আবারও এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৬০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মুসল্লি মুহাম্মদ জুমা আতিয়্যাহ বলেন, যারা এই ইবাদতখানা পুনর্নির্মাণে অবদান রেখেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন মুক্ত ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।