ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ভোগান্তিতে যাত্রীরা,সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌপথে ঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ,

 


রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বাড়ছিল ঘাটে। তবে বেলা বাড়লেও যাত্রী পারাপারের সুযোগ ছিল না। মঙ্গলবার (১২ মে) পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পারের হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্পিডবোট বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে যাত্রীরা জানান, পরে জোয়ার বাড়লে সার্ভিস বোট (কাঠের তৈরি ট্রলার) চলাচল শুরু হয়। তখন অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে সার্ভিস বোটে যাত্রা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এই রুটে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৬০ টাকা। এরপর থেকেই মূলত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের পোষাবে না। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এদিকে স্পিডবোট বন্ধের ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করে তারা বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মালিকপক্ষ প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময়ও কয়েক দফা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।

আরও পড়ুনঃ  ‘রানাকে বাউন্সার মারলে পাল্টা বাউন্সার খেতে হবে’

আজ ঘাটে আসা যাত্রী আবির ইসলাম (৪০) বলেন, ‘জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলছে না। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।’

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জগলুল হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটের ভাড়া ৩২৫ টাকা হলেও একই দূরত্বের কুমিরা-গুপ্তছড়ার ভাড়া কীভাবে ২৬০ টাকা হয়? পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় আমাদের লস হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। সমাধান না হলে লস দিয়ে তো আর স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়।’

তবে কীভাবে ও কার সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাফিক আইন ভাঙলে ডিমেরিট পয়েন্ট, ১২ পয়েন্টে বাতিল হবে লাইসেন্স

এর আগে, সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন ও প্রশাসন (টিএ) শাখা দেশের ৩৫টি শান্ত ও ৯টি অশান্ত নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এই ভাড়াকে অযৌক্তিক দাবি করেছেন নৌযান মালিকেরা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে জানিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।

T ag
জনপ্রিয় পোস্ট

ভোগান্তিতে যাত্রীরা,সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ নৌপথে ঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ,

আপডেটের সময়: ০৯:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 


রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বাড়ছিল ঘাটে। তবে বেলা বাড়লেও যাত্রী পারাপারের সুযোগ ছিল না। মঙ্গলবার (১২ মে) পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পারের হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্পিডবোট বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি উল্লেখ করে যাত্রীরা জানান, পরে জোয়ার বাড়লে সার্ভিস বোট (কাঠের তৈরি ট্রলার) চলাচল শুরু হয়। তখন অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে সার্ভিস বোটে যাত্রা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এই রুটে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৬০ টাকা। এরপর থেকেই মূলত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাফিক আইন ভাঙলে ডিমেরিট পয়েন্ট, ১২ পয়েন্টে বাতিল হবে লাইসেন্স

স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের পোষাবে না। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এদিকে স্পিডবোট বন্ধের ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করে তারা বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মালিকপক্ষ প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময়ও কয়েক দফা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আজ ঘাটে আসা যাত্রী আবির ইসলাম (৪০) বলেন, ‘জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলছে না। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।’

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জগলুল হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটের ভাড়া ৩২৫ টাকা হলেও একই দূরত্বের কুমিরা-গুপ্তছড়ার ভাড়া কীভাবে ২৬০ টাকা হয়? পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় আমাদের লস হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। সমাধান না হলে লস দিয়ে তো আর স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়।’

তবে কীভাবে ও কার সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে একচুলও সরিনি: ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক

এর আগে, সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন ও প্রশাসন (টিএ) শাখা দেশের ৩৫টি শান্ত ও ৯টি অশান্ত নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এই ভাড়াকে অযৌক্তিক দাবি করেছেন নৌযান মালিকেরা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে জানিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।