
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো শ্রমিকরা। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই দেশের শিল্প ও অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ‘উন্নয়নের মূল কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
মে দিবসের আলোচনা সভা
শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে সবার নব প্রভাত’—এই প্রতিপাদ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
শ্রমিক কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ
রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বন্ধ কলকারখানা, চিনিকল ও রেশম কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি বন্ধ পাটকল আবার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক মান
শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রোটোকলে অনুস্বাক্ষর করেছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার উল্লেখ
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রেমিট্যান্সভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা অব্যাহত রেখে শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকেছেন।
তার ভাষায়, “বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে শ্রমিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”
শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক নিয়ে সতর্কবার্তা
শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্রে শ্রমিকদের প্রভাবিত হয়ে অস্থিরতায় জড়ানো উচিত নয়।
তিনি টেকসই শিল্প উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সহায়তা প্রদান
অনুষ্ঠানের শুরুতে মিরপুরের রূপনগরে কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৩ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















