ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন বেনাভোলেন্ট অর্থ বার এসোসিয়েশন ফান্ডে অর্থ প্রদান করলেন জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। আইডি নম্বর S01731 দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি সাংবাদিক নেতাদের জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে আলোচনায় ছিলেন আরাফাত প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, অনশনে ছাত্রনেতা ভারতের টেস্ট দলে কাশ্মিরি পেসার আকিব নবি পাকিস্তানে থানায় আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৭ টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিষিদ্ধ ‘শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধী দল’ চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাসীরউদ্দীনের প্রতীকী প্রতিবাদ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শ্রমিকের মজুরি ১২০০, ধানের মণ ৮০০ টাকা

 

‘ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, আর বেচমুই বা কি?’—হতাশাভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ধান কাটার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলেন তিনি।

চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুর জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের আকাশছোঁয়া মজুরির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যা খরচ তো আছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

আরও পড়ুনঃ  তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে দিন শুরু প্রধানমন্ত্রীর

এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ১২০০ টাকা মজুরি হিসেবে শুধুমাত্র ধান কাটতেই খরচ পড়ছে ৯ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৪-২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী (৮০০ টাকা মণ) বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো।

আরও পড়ুনঃ  ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ফলে প্রতিটি বিঘা জমিতে কৃষকদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “সব খরচ মিটিয়ে আসল টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।”

মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, অনেক বছর ধরে বাবার সাথে এবং পরবর্তীতে নিজে চাষাবাদ করলেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি কখনো। তিনি বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ অথচ ধানের দাম মাত্র ৮০০ টাকা। ৯ বিঘা জমির ওপর আমার সংসার চলে, এবার কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জামালপুরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারমূল্য নিয়ে কৃষকদের এই হাহাকার কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনার সঙ্গে একই ভার্চুয়াল মঞ্চে থাকতে পারেন সাকিব আল হাসান

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান এ বিষয়ে বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন এখনই সব ধান বিক্রি না করে এক বা দুই মাস পর বিক্রি করেন। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিলে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাবেন। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না।”

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন বেনাভোলেন্ট অর্থ বার এসোসিয়েশন ফান্ডে অর্থ প্রদান করলেন জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। আইডি নম্বর S01731

শ্রমিকের মজুরি ১২০০, ধানের মণ ৮০০ টাকা

আপডেটের সময়: ০৯:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 

‘ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, আর বেচমুই বা কি?’—হতাশাভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ধান কাটার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলেন তিনি।

চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুর জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের আকাশছোঁয়া মজুরির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যা খরচ তো আছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

আরও পড়ুনঃ  কোটি টাকায় বিক্রি হলো বিটিএস তারকা জিমিনের ব্যবহৃত শার্ট

এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ১২০০ টাকা মজুরি হিসেবে শুধুমাত্র ধান কাটতেই খরচ পড়ছে ৯ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৪-২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী (৮০০ টাকা মণ) বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো।

আরও পড়ুনঃ  ‘দ্য ওডিসি’র দাপট: ৩০ মিনিটেই শেষ বিএফআই আইম্যাক্সের সব টিকিট

ফলে প্রতিটি বিঘা জমিতে কৃষকদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “সব খরচ মিটিয়ে আসল টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।”

মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, অনেক বছর ধরে বাবার সাথে এবং পরবর্তীতে নিজে চাষাবাদ করলেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি কখনো। তিনি বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ অথচ ধানের দাম মাত্র ৮০০ টাকা। ৯ বিঘা জমির ওপর আমার সংসার চলে, এবার কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জামালপুরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারমূল্য নিয়ে কৃষকদের এই হাহাকার কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  দেশে ৫ লাখের বেশি সরকারি পদ শূন্য, বেকারত্ব কমাতে দ্রুত নিয়োগের দাবি

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান এ বিষয়ে বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন এখনই সব ধান বিক্রি না করে এক বা দুই মাস পর বিক্রি করেন। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিলে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাবেন। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না।”