
সুন্দরবন–এ বনদস্যুদের কবলে সাত দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। গত ৩ মে রাতে সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু “জাহাঙ্গীর বাহিনী” তাদের অপহরণ করে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফেরেন।
অপহৃত জেলেদের পায়ে শিকল পরিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে ৫ মে বনদস্যু “শরীফ বাহিনী” জাহাঙ্গীর বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির পর জেলেদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় শরীফ বাহিনী এবং সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়।
জিম্মিদশা থেকে ফিরে আসা জেলে রুবেল হাওলাদার জানান, জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর শুক্রবার ভোরে তাদের নৌকাযোগে ধানসাগর আড়ুয়াবেড় নদীর মোহনায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে তারা এলাকায় পৌঁছান।
ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—ছগির, রাকিব, লুৎফর হাওলাদার, বাদল হাওলাদার, সজিব হাওলাদার, হাফিজুল, আলমগীর ফরাজী, ইয়াসিন হাওলাদার, রুবেল ও দেব চন্দ্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্য মহাজন জানান, প্রথমে দস্যুরা প্রতি জেলের জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। বিকাশের মাধ্যমে মোট প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের পর জেলেদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে ভবিষ্যতে আবারও দস্যুদের হামলার আশঙ্কায় জেলে ও মহাজনরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
শরণখোলা থানা–র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















